কেরল, অসম ও পুদুচেরিতে এদিন ভালো ভাবে ভোট হচ্ছে, আমাদের এখানে কী হবে? প্রশ্ন শুনে হাসিমুখে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বললেন, "এখানেও ভালো ভাবেই ভোট হবে"।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোট যে এবার ভালো ভাবেই হবে, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাংলায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কমিশন বদ্ধপরিকর, সাংবাদিক বৈঠক করে তা জানিয়েছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের মুখেও শোনা গিয়েছে, "বাংলার ভোট কালচার এবার পাল্টাবে"।
কমিশনের কন্ট্রোল রুম
ইতিমধ্যেই কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে কমিশনের কন্ট্রোলরুম।
প্রতি বুথে ২ টি ক্যামেরা থাকবে।
বুথের ভিতর ১ টি, বাইরে ১ টি।
একটি ক্যামেরা বুথের লাইনের দিকে নজর রাখবে।
অন্যটি বুথের ভিতর পোলিং এজেন্ট, পোলিং স্টাফদের উপর নজর রাখবে।
কোনওবাবেই ভোটিং কম্পার্টমেন্টের ছবি উঠবে না। অর্থাৎ, ইভিএম-এর ছবি ওঠার কোনও সম্ভাবনাই থাকবে না। ফরে কে কোন প্রতীকে ভোট দিচ্ছেন, তা প্রকাশ্যে আসার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই।
কন্ট্রোল রুমে ৭২ টি স্ক্রিন থাকছে। একসঙ্গে ৫০০ টি বুথের ছবি দেখতে পারবেন ২০০ জন মাইক্রো অবজার্ভার।
কোথাও এতকুটু সমস্যা হলেই এআই পপ আপ দিয়ে সতর্ক করবে।
সঙ্গে-সঙ্গে কুইক রেসপন্স টিমের কাছে খবর পৌঁছবে। অনেক সময়ে খবর পেতে দেরি হয়, তাই পদক্ষেপ করতেও দেরি হয়। এবার তাই এই বন্দোবস্ত।
১০ টি টোল ফ্রি নম্বর থাকবে। চাইলে যে কেউ ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
কন্ট্রোল রুমের অবজার্ভাররা সঙ্গে-সঙ্গে স্ক্রিনে দেখে নেবেন, অভিযোগ সত্যি কি না।
৭২ টি স্ক্রিনের বাইরেও ১৮ টি স্ক্রিন থাকবে। এসএসটি (স্ট্যাটিক সার্ভেলেইন্স টিম) আর এমএসটি (মুভিং সার্ভেলেইন্স টিম) কাজ করবে।
মঙ্গলবার থেকেই এসএসটি ও এমএসটি কাজ শুরু হয়ে গেল।
বুথের ত্রিসীমানায় থাকবে না পুলিস
কমিশন-সূত্রে খবর, যেহেতু বারংবার রাজ্যের পুলিসের বিরুদ্ধে শাসকদলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছে, তাই এবার বুথের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে। বুথের বাইরে ভোটারদের নথি যাচাইয়ে বিএলও-র সঙ্গে থাকবেন বাহিনীর জওয়ানরাও। ভিতরেও থাকবেন জওয়ানরা। বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে সবকিছু তদারক করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এবং, রাজ্যের ৮০ হাজার ৭১৯ টি বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কোথাও থাকবে না রাজ্যের পুলিস!
বেচাল দেখলেই পপ আপ দেবে এআই
কমিশন এবার এতটুকু বেচাল দেখলে সংশ্লিষ্ট বুথের ভোট খারিজ করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেবে। রাজ্যের সিইও-র কথায়, "আগে রিপোল (পুনর্নির্বাচন) ছিল এক্সসেপশন, এবার এতটুকু সন্দেহ থাকলেই পুনর্নির্বাচন হবে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বুথের ভিতর চারজনের বেশি প্রবেশ নিষেধ। রাজ্যের ৮০ হাজার বুথের কোনও একটিতে যদি চারজনের বেশি লোক ঢুকে পড়ে, তাহলে সঙ্গে-সঙ্গে পপ-আপ দেবে এআই। সেই পপআপ দেখলেই তৎদণ্ডে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কমিশনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে চলে যাবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীও দ্রুত পদক্ষেপ করবে। প্রত্যেক বুথের অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ, গুগল ম্যাপ, প্রিসাইডিং অফিসার, সব রয়েছে (সফটওয়্যারে)"। এরপর কমিশনের সাবধানবাণী, "কেউ গন্ডগোল করলে নিজের দায়িত্বে করবে"।