বিহারে দাঁড়িয়ে বাংলায় দখল করার কথা বললেন অমিত শাহ। সশস্ত্র সীমা বল-এর এক অনুষ্ঠান থেকে এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে শোনা গেলো, "আমার পুরো বিশ্বাস, এবার বাংলায় বিজেপি সরকার গড়বে। সরকার ...
বিহারে দাঁড়িয়ে বাংলায় দখল করার কথা বললেন অমিত শাহ। সশস্ত্র সীমা বল-এর এক অনুষ্ঠান থেকে এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে শোনা গেলো, "আমার পুরো বিশ্বাস, এবার বাংলায় বিজেপি সরকার গড়বে। সরকার গড়লে তার প্রথম কাজই হবে এক-এক করে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা ও দেশ থেকে বার করে দেওয়া"।
বাংলায় যখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন, তখন বিজেপির সর্বভারতীয় সেনাপতি অমিত শাহের দাবি, অনুপ্রবেশের কারণে জনবিন্যাস সবচেয়ে বেশি পাল্টে যাচ্ছে বিহার, ঝাড়খণ্ড আর পশ্চিমবঙ্গে। আত্মপ্রত্যয়ী শাহ এদিন দাবি করলেন, "বিহারে তো এই ইস্যুকে সামনে রেখেই ভোট হয়েছিল। বিরোধীরা বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু বিহারের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ যে, তাঁরা আমাদের সরকারকে জয়ী করেছেন। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তাঁদের রায় জানিয়েছেন"। যদিও তারপরই সতর্ক হয়ে তাঁর সংযোজন, "উন্নয়নের সঙ্গে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিহারের মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন"।
জনবিন্যাস পাল্টাচ্ছে?
গত বছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বাংলায় আসার আগে অসম থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সুর চড়িয়ে নরেন্দ্র মোদীকে বলতে শোনা যায়, "বাংলাদেশ সীমান্তে জনবিন্যাস বদলে দিতে অনুপ্রবেশকারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে এ এক বড় হুমকি। এ জিনিস বন্ধ করতেই জনবিন্যাস মিশন (Demography Mission) শুরু করা হচ্ছে"।
পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ অবশ্য প্রশ্ন তুলছেন, রুজি-রুটি-রোজগারির জ্বলন্ত ইস্যুকে একপাশে সরিয়ে রেখে শুধুই অনুপ্রবেশ তথা হিন্দু-মুসলিম জনবিন্যাসের বিষয়কে সামনে রেখে বাংলার মন জেতা যাবে কি? শুধু তা-ই নয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে 'তোলাবাজি', 'গুন্ডাবাজি', 'মাইকবাজি' নিয়ে যত-না অভিযোগ তুলছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা, তার চেয়ে অনেক তাঁদের মুখে শোনা যাচ্ছে অনুপ্রবেশ ইস্যু। শোনা যাচ্ছে গোল-গোল এক স্লোগান:'বাঁচতে চাই বিজেপি তাই'। এই পরিস্থিতিতে, বাংলায় আইনশৃঙ্খলা নেই বলে সুর চড়িয়ে, অহোরাত্রি অনুপ্রবেশ-অনুপ্রবেশ করে ১০০ ডেসিবেলে চিৎকার করেই কি তৃণমূলের অপ্রতিরোধ্য দুর্গ দখল করতে পারবে বঙ্গ-বিজেপি? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে।