চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, "সুপ্রিম কোর্টে যাবো"। যদিও সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, "যদিও বিজে...
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, "সুপ্রিম কোর্টে যাবো"। যদিও সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, "যদিও বিজেপি বিচারব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে চায়"।
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এবং বিবেচনাধীন ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এদিকে, খসড়া তালিকায় বাদ যাওয়া ৫৮ লক্ষের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এমতাবস্থায়, বাংলায় এসআইআর-পর্ব শুরু হওয়ার আগে ভোটার তালিকায় ছিল ৭,৬৬,৩৭,৫২৯ জনের নাম। শনিবারে চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে ৬,৪৪,৫২,৬০৯ জনের নাম। সম্প্রতি নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে চলেছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর তেমনটাই দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বিশদে তথ্য-পরিসংখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের সংবেদনশীলতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। দাবি করেন, একমাত্র বাংলার ক্ষেত্রেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি, অন্যত্র এসআইআর-এ কিন্তু এর কোনও অস্তিত্ব নেই।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেরদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে ভর্ৎসিত হতে হয় রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বালকে। এবং কমিশনের বিরুদ্ধে লাগাতার নালিশে বিরক্ত হন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। প্রশ্ন উঠছে, ওই শুনানিকে মাথায় রেখেই কি এদিন অভিষেক বললেন, "যদিও বিজেপি বিচারব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে চায়"।
কমিশন কেন বিচারকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন তোলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বাল। প্রধান বিচারপতির এজলাস পাল্টা উত্তর দেয়, কমিশন দেবে না তো কে দেবে? বাংলায় এসআইআর নিয়ে যখন রাজ্য এবং কমিশন যুদ্ধরত, তখন সুপ্রিম কোর্ট নজিরবিহীনভাবে আদালতের নজরদারিতে বিচারকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। এবং তারপর কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল রাজ্য ও কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নিম্ন আদালতের বিচারকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ওটিপির সাহায্যে নিজেদের আইডি লগ ইন করেছেন। কাজও শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু এমতাবস্থায় অভিষেকের প্রশ্ন, বিবেচনাধীন ৬০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি কি এত তাড়াতাড়া করা সম্ভব হবে আদৌ?