শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরের দিন রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন করেন, ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষের নাম নেই কেন? শুধু রিচাই নন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাং...
শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরের দিন রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন করেন, ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষের নাম নেই কেন? শুধু রিচাই নন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলার অনেক গুণী মানুষের নাম কেন বাদ গিয়েছে তালিকা থেকে, তা নিয়ে কমিশনকে বিঁধে বাঙালি অস্মিতার প্রশ্ন উস্তে দেন অভিষেক। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে ইঙ্গিতবাহী একটি পোস্ট করা হয় সমাজমাধ্যমে। পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণ, নাম বাদ যাওয়ার জন্য এই পোস্টে ঘুরপথে রাজ্যকেই দায়ী করল কমিশন। এবং সেইসঙ্গে, রাজ্যের আধিকারিকদের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হল।
'বাদ' নিয়ে কী বলছে কমিশন?
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, "২০০২-এর ভোটার তালিকার নিরিখে রিচা ঘোষ 'আনম্যাপড' হয়েছিলেন। তাঁর পরিবার-পরিজন বেশ কিছু নথি নিয়ে শুনানিতে আসেন। মনে হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ইআরও, এইআরও (রিচার নাম থাকবে কি না) নিষ্পত্তি করতে পারেননি। সেই কারণে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর নাম এখন বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)। ইআরও এবং এইআরও-র কাছে এর কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। (তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতে) পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে"।
কমিশনের কৌশলী চাল?
পর্যবেক্ষকরা তেমনটাই মনে করছেন। রাজ্য ও কমিশনের দ্বৈরথে সুপ্রিম কোর্ট শেষ অবধি বিচারক তথা বিচারবিভাগীয় আধিরকারিকদের হাতে নিষ্পত্তির ক্ষমতা তুলে দেয় ঠিকই। কিন্তু, তার আগে অবধি, নিষ্পত্তির দায়িত্বে ছিলেন ইআরও এবং এইআরও-রা। যাঁরা আদতে রাজ্যের অধীনে কর্মরত এসডিও আর বিডিও। স্বাভাবিকভাবেই, রিচা ঘোষের নাম নিয়ে নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব তাঁদের উপরই বর্তায়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কমিশনের এই অকাট্য যুক্তি খণ্ডন করা সত্যিই কঠিন। শুধু তা-ই নয়। কমিশন এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছে। রিচার নাম না-থাকার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে একদিকে রাজ্যের আধিকারিকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বা কর্তব্যে অবহেলার প্রশ্নকে সামনে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, শুনানিতে এসে হয়তো-বা প্রয়োজনীয় নথি জমা দেননি রিচার পরিবার-পরিজনেরা।
এখানেই শেষ নয়
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রিচার নাম নিয়ে ইআরও এবং এইআরও-র রিপোর্ট তলব কার্যত রাজ্যের আধিকারিকদের সমস্যায় ফেলবে। কারণ, রিপোর্টে হয় তাঁদের জানাতে হবে যে, যথাযথ নথি জমা দেওয়া হয়নি। নয়তো, স্বীকার করে নিতে হবে যে, তাঁদের কর্তব্যের অবহেলার জন্যই রিচার নাম বাদ গিয়েছে। দ্বিতীয়টা কার্যত অসম্ভব। এবং, প্রথমটিও খুব-একটা সুখকর নয় রাজ্যের শাসকদলের কাছে।