একুশের বিধানসভায় বাংলায় দুশো আসন টার্গেট করে ৭৭-এ এসে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছিল বিজেপি। তার থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার জয় শ্রীরামের বদলে জয় মা কালী বলে তরী ভাসিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ। বঙ্গবিজেপি নে...
একুশের বিধানসভায় বাংলায় দুশো আসন টার্গেট করে ৭৭-এ এসে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছিল বিজেপি। তার থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার জয় শ্রীরামের বদলে জয় মা কালী বলে তরী ভাসিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ। বঙ্গবিজেপি নেতৃত্ব আর শুধু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না-থেকে উত্তমকুমার থেকে শুরু করে সত্যজিৎ রায়ের ছবি দিয়ে আলোচনা সভা সাজাচ্ছে। এমনই এক সন্ধিক্ষণে, ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ ভোটের মুখে বঙ্গবাসীকে বাংলায় খোলা চিঠি লিখলেন নরেন্দ্র মোদী: আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কোন পথে চালিত হবে, তার গুরুদায়িত্ব নির্ভর করছে আপনার একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের উপর।
'সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত' যে বুথে গিয়ে পদ্মচিহ্নে ভোট দেওয়া, তা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, 'জয় মা কালী' বলে চিঠি শুরু করে বঙ্গবাসীকে বাংলা হরফে চিঠির উদ্দেশ্য আদতে বিজেপিকে আরও বেশি করে 'বাঙালি' বলে প্রমাণ করা। নইলে, জনসভা থেকে শুরু করে ইউটিউবের বিজ্ঞাপনে যা বলছে বিজেপি, তার বাইরে কিন্তু সেভাবে কিছু লেখা নেই এই চিঠিতে। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক যোজনায় বাংলার কত মানুষ, কতজন মহিলা, কতটা উপকৃত হয়ে তা পরিসংখ্যান দিয়ে জানানো হয়েছে এই চিঠিতে। যা ইতিমধ্যেই বহুবার বিজ্ঞাপিত হয়েছে। এর বাইরে যা লেখা রয়েছে, তা-ও কিন্তু সেই একই কথার চর্বিত-চর্বণ: 'যুবকরা ভিনরাজ্যে', 'মা-বোনেরা শঙ্কিত'।
এরপর? হাতে পেনসিল ছাড়া আর কিছুই পড়ে থাকে না। স্বাধীনতার পর যে-বাংলা শিল্পে এগিয়ে ছিল, সাড়ে তিনদশকের বামজমানা ও তারপর দেড় দশকের তৃণমূল জমানায় তার 'দুরবস্থায়' দুঃখিত প্রধানমন্ত্রী। এবং সেই কারণে, 'বিকশিত' বাংলা গড়ে তুলতে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আবেদন। সোজা কথায়, বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করা।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শুধু বাংলায় নয়, দেশজুড়েই বিজেপির এই এজেন্ডা: ভারতের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করা। আমেরিকায় ঠিক এই ভাষ্য তৈরি করেই দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবং, 'আমেরিকার হৃতগৌরব' ফেরাতে যে-পদক্ষেপ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, তাতে করে ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রবল জনমত তৈরি হয়েছে তাঁর নিজের দেশেই। আর দেশের বাইরের কথা না-হয় না-ই বলা গেলো।