যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বর্তমানে তাঁর দ্বিতীয় দফার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। YouGov/Economist-এর সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, তাঁর অনুমোদনের হার এখন ৩৯ শতাংশ, যা আগের সপ্তাহগুলোর ৪১ শতাংশ এবং আগস্টের মাঝামাঝি ৪০ শতাংশ থেকে আরও নিচে নেমে এসেছে। এই পতন শুধু একটি সংখ্যাগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি তাঁর নেতৃত্বের প্রতি জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
এই জরিপে আরও দেখা গেছে যে ৫৭ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক ট্রাম্পের নেতৃত্বে অসন্তুষ্ট, যা তাঁর দ্বিতীয় দফার সর্বোচ্চ বিরূপ প্রতিক্রিয়া। তাঁর নেট অনুমোদন রেটিং এখন মাইনাস ১৮, যা তাঁর প্রেসিডেন্সির দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। যদিও ২০১৭ সালের নভেম্বরে মাইনাস ২১-এ পৌঁছেছিল, তখন সেটি ছিল অস্থায়ী এবং পরে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছিল।
তবে জরিপকারীরা বলছেন, এই পতন স্থায়ী হবে কি না তা এখনই বলা কঠিন। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন কিছুটা বেশি—৪৩ শতাংশ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে যাঁরা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ এখনো তাঁর কাজের প্রশংসা করেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে তাঁর মূল সমর্থনভিত্তি এখনো দৃঢ় রয়েছে।
তবে সমস্যা দেখা দিচ্ছে স্বাধীন ও মধ্যপন্থী ভোটারদের মধ্যে। স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। মধ্যপন্থীদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট। এই গোষ্ঠীগুলো সাধারণ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এবং তাঁদের সমর্থন হারানো ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার জন্য উদ্বেগজনক।
এই জনপ্রিয়তা হ্রাসের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে—অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, অভ্যন্তরীণ বিভাজন, এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উত্থান। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের চ্যালেঞ্জ এবং ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিগত অবস্থান নিয়ে বিতর্ক এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই জরিপ ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে ১,৫৬৭ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন এবং এর ত্রুটির সীমা ৩.৬ শতাংশ পয়েন্ট। ফলে, যদিও ফলাফলটি গুরুত্বপূর্ণ, তবুও এটি একটি সাময়িক চিত্র এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে।
উপসংহার: সতর্ক সংকেত, কিন্তু চূড়ান্ত রায় নয়
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা পতন তাঁর নেতৃত্বের প্রতি জনমতের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠ সমর্থকগোষ্ঠী এখনো দৃঢ়, বৃহত্তর জনমতের বিচারে এই পতন একটি সতর্ক সংকেত। আগামী মাসগুলোতে তাঁর প্রশাসনের কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক বার্তা এই প্রবণতা স্থায়ী হবে কি না, তা নির্ধারণ করবে।