আধুনিক সংঘাতের চেহারা বদলে দিয়েছে ড্রোন যুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের শাহেদ সিরিজের কামিকাজে ড্রোন যেমন মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছে, তেমনি ভারতও এখন নিজস্ব উদ্ভাবন নিয়ে এই ক্ষেত্রে প্রবেশ করছে।
নয়ডাভিত্তিক দুই সংস্থা—IG Defence ও NewSpace Research and Technologies—সম্প্রতি এমন প্রকল্প উন্মোচন করেছে যা বিশ্বব্যাপী আলোচিত শাহেদ ড্রোনের প্রতিচ্ছবি। IG Defence-এর “প্রজেক্ট KAL” দীর্ঘ সময় আকাশে ভেসে থেকে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভুল হামলার ক্ষমতা রাখে। ট্রেন বা ট্রাক থেকে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এই ড্রোন শত্রুর রাডার ও লজিস্টিকস হাবকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
অন্যদিকে, NewSpace-এর “শেশনাগ-১৫০” একসঙ্গে বহু ড্রোনের সমন্বিত আক্রমণ চালানোর ক্ষমতা অর্জন করেছে। এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ৪০ কেজি পর্যন্ত পে-লোড বহন করে এটি দীর্ঘস্থায়ী ও স্কেলযোগ্য আক্রমণ ব্যবস্থার দিকেই ইঙ্গিত দেয়।
এই প্রকল্পগুলো প্রমাণ করে যে যুদ্ধ আর শুধু প্রচলিত অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়। সাশ্রয়ী, দীর্ঘপথগামী ও সমন্বিত ড্রোনই আগামী দিনের যুদ্ধনীতির কেন্দ্রে থাকবে। ভারতের এই পদক্ষেপ কেবল প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাই নয়, বরং কৌশলগত দূরদর্শিতারও প্রতিফলন।