Calcutta Television Network

পশ্চিম এশিয়ার সংকট ও 'সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী' পাকিস্তানের অর্থনৈতিক চাপ

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তান নিজেকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ঘোষণা করেছেন যে ইসলামাবাদ আলোচনার ভেন্যু হতে প্রস্তুত। তবে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি পাকিস্তান তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে।  

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়ছে, যা পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে সরকার শিগগিরই কিছু পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নিতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে।  

সিনিয়র সাংবাদিক শামস কেরিও সতর্ক করেছেন যে আলোচনায় ব্যর্থতা হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়বে, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। কৃষি খাত ইতিমধ্যেই সংকটে পড়েছে—DAP ও ইউরিয়া সার অপ্রাপ্য হয়ে উঠছে, আর গম, তুলা ও আখের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তাঁর মতে, পেট্রোলের দাম আরও বাড়লে দারিদ্র্য গভীর হবে এবং দেশ কয়েক দশক পিছিয়ে যাবে।  

ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের জন্য তাই কেবল কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও সংঘাত প্রশমিত করা জরুরি। জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশ হিসেবে পাকিস্তান জানে যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত তার অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করতে পারে।  

অতএব, পাকিস্তানের মধ্যস্থতার আগ্রহ শুধু কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য নয়, বরং নিজের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্যও। পশ্চিম এশিয়ার সংকট যত দীর্ঘায়িত হবে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ চাপ তত বাড়বে।  

শেয়ার করুন