যমুনার জলে চাঁদের আলো ঝিকমিক করছে। বাঁশির সুর ভেসে আসছে—মিষ্টি, মাদক, যেন প্রতিটি স্বরে কৃষ্ণ ডাকছেন, “আয় রে, আয়।”
গোপীদের ঘরে ঘুম নেই। রাধা দাঁড়িয়ে আছেন দ্বারে, চোখে অশ্রু, হৃদয়ে অগ্নি। “কোথায় তুমি, কানু?” মনে মনে বলেন। হঠাৎ বাঁশির সুর থামে। চারদিক নিস্তব্ধ।
তারপর শোনা যায়—হাজারো পায়ের শব্দ। গোপীরা ছুটে আসছেন। কেউ শাড়ির আঁচল ফেলে দিয়েছে, কেউ গয়না, কেউ সন্তানের হাত ছেড়ে। সবাই এক কথা—“কৃষ্ণ, কৃষ্ণ!”
বনের মাঝে বিরাট বটবৃক্ষের নীচে কৃষ্ণ দাঁড়িয়ে। পীতাম্বর, ময়ূরমুকুট, হাসি মুখে। গোপীরা এসে ঘিরে ধরেন। কৃষ্ণ বলেন, “ফিরে যাও। সংসার আছে, কর্তব্য আছে।”
রাধা এগিয়ে আসেন। চোখে জল, কণ্ঠে দৃঢ়তা—“তোমার চরণেই আমাদের সংসার। তুমি ছাড়া আর কিছু নেই।”
কৃষ্ণ হাসেন। হঠাৎ অদৃশ্য। গোপীরা কাঁদতে থাকেন। “কোথায় গেলে?”
তারপর… প্রতি গোপীর পাশে এক কৃষ্ণ। হাজার গোপী, হাজার কৃষ্ণ। যোগমায়ার খেলা। বাঁশি বাজে, ঘুঙুর ঝমঝম। রাস শুরু হয়।
রাধা কৃষ্ণের হাত ধরে নাচেন। চাঁদ লজ্জায় মুখ লুকোয়। যমুনা থমকে দাঁড়ায়। ফুল ঝরে, পাখি গান থামায়। শুধু নৃত্য। শুধু প্রেম।
নৃত্য শেষে কৃষ্ণ বলেন, “তোমরা আমার, আমি তোমাদের। এই প্রেম কখনো শেষ হয় না।”
গোপীরা ফিরে যান। কিন্তু তাঁদের চোখে আর অশ্রু নেই—আছে আলো। কৃষ্ণের আলো।