“নারায়ণ নারায়ণ” এই কথার প্রবক্তা কে? তিনি কে, কীভাবে তাঁর জন্ম হল, এবং কেন তাঁর জন্ম হল—আজ জানব সেই ইতিহাস।
ব্রহ্মা হলেন বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা। তাঁর নির্দেশে সৃষ্টি হল আকাশ, বাতাস, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, পাহাড়, পর্বত—সমস্ত জগৎ। কিন্তু দেবতাদের বাসস্থান, খাদ্য, এবং যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবস্থা তিনি করতে পারেননি। দেবতারা কোথায় থাকবেন? কী খাবেন? অস্ত্রশস্ত্র কোথায় পাবেন? এই সমস্যা নিয়ে দেবতারা ব্রহ্মার কাছে গেলেন। ব্রহ্মা তখন দেবগুরু বৃহস্পতিকে দায়িত্ব দিলেন। পুরাণ অনুসারে, বৃহস্পতির বোন যোগসিদ্ধা এবং অষ্টম বসু প্রভাসের ঔরসে জন্ম হল বিশ্বকর্মার। বিশ্বকর্মা তৈরি করলেন স্বর্গ, মর্ত্য, পাতালের সমস্ত প্রয়োজনীয় বস্তু। ফলে দেবতা, অসুর, ও মানুষ তাদের নিজ নিজ স্থানে বসবাস শুরু করলেন।
কিন্তু সমস্যা হল যোগাযোগের। স্বর্গ, মর্ত্য, পাতালের মধ্যে খবর আদান-প্রদানের জন্য কোনো বার্তাবাহক ছিল না। শিবলোকের খবর ব্রহ্মলোকে, গোলকধামের সংবাদ মর্ত্যলোকে, বা বিষ্ণুলোকের খবর অসুরলোকে কীভাবে পৌঁছাবে? এই সমস্যা নিয়ে দেবতা ও অসুরেরা আবার ব্রহ্মার কাছে গেলেন। তখন ব্রহ্মা যোগসাধনার মাধ্যমে একজন দেবতা ও ঋষির সৃষ্টি করলেন—তিনি হলেন দেবর্ষি নারদ। নারদ ব্রহ্মার মানসপুত্র, অর্থাৎ মন থেকে সৃষ্ট সন্তান, শারীরিক মিলন ছাড়াই মানসিক শক্তির দ্বারা জন্ম নেওয়া। নারদ মুনি হলেন হিন্দু পুরাণের একজন ঋষি-দেবতা, ভগবান বিষ্ণুর একনিষ্ঠ ভক্ত, বিখ্যাত ভ্রমণকারী সঙ্গীতজ্ঞ ও গল্পকার। তাঁর পিতা হলেন ব্রহ্মা।
নারদ কীভাবে স্বর্গ, মর্ত্য, পাতালে চলাফেরা করবেন? ব্রহ্মা তাঁকে একটি ঢেঁকি বাহন হিসেবে দিলেন। এই ঢেঁকিতে চড়ে নারদ বিভিন্ন লোকে খবর আদান-প্রদান করতে লাগলেন। তিনি দেবলোক থেকে মর্ত্যলোকে ভ্রমণ করেন, সংবাদ ও জ্ঞান বহন করেন, এবং একজন গুরুত্বপূর্ণ দূতের ভূমিকা পালন করেন। ব্রহ্মা তাঁকে “মহাতি” নামে একটি বীণা ও খরতাল উপহার দেন, যা তিনি গান-বাজনার জন্য ব্যবহার করেন। কখনো কখনো নারদ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল সংবাদ দিয়ে দেবতাদের মধ্যে বিবাদ লাগিয়ে মজা পেতেন, এজন্য তাঁকে দৈবিক যুগের সাংবাদিক বলা হয়। স্বর্গ, মর্ত্য, পাতালের খবর আদান-প্রদানের জন্যই ব্রহ্মা নারদকে সৃষ্টি করেছিলেন।