Calcutta Television Network

নাসার X-59: ৫০ বছরের সুপারসনিক বাধা ভাঙার স্বপ্ন

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থলভাগের ওপর বাণিজ্যিক সুপারসনিক উড়ান কার্যত নিষিদ্ধ ছিল। এর প্রধান কারণ ছিল সুপারসনিক বিমানের তৈরি বিশাল সোনিক বুম। কনকর্ড-এর মতো বিমান শব্দের গতিকে অতিক্রম করলে উৎপন্ন চাপ-তরঙ্গ একত্রিত হয়ে প্রায় ১১০ ডেসিবেলের বিস্ফোরণসদৃশ শব্দ তৈরি করত, যা ঘরের জানালা কাঁপিয়ে দিতে পারত।

এই সমস্যার সমাধান করতেই NASA এবং Lockheed Martin Skunk Works যৌথভাবে তৈরি করেছে X-59 Quesst (Quiet SuperSonic Technology) নামের পরীক্ষামূলক বিমান। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে উড়েও মাটিতে বিরক্তিকর সোনিক বুম সৃষ্টি না করা।

বিমানটির দৈর্ঘ্য ৯৯.৭ ফুট, যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে ৩৮ ফুট দীর্ঘ অত্যন্ত সরু ও সূচালো নাক। এই বিশেষ নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে বিমানের উৎপন্ন চাপ-তরঙ্গগুলো একত্রিত হয়ে বড় সোনিক বুমে পরিণত না হয়। X-59 প্রায় ম্যাক ১.৪ বা ঘণ্টায় ৯২৫ মাইল গতিতে ৫৫,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম।

আরও একটি অভিনব বৈশিষ্ট্য হলো এর জেট ইঞ্জিনের অবস্থান। ইঞ্জিনটি ফিউজলাজের ওপরের অংশে বসানো হয়েছে, ফলে নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়া শকওয়েভ অনেকটাই বাধাপ্রাপ্ত হয়। এর ফলে ১১০ ডেসিবেলের প্রচণ্ড সোনিক বুম কমে মাত্র ৭৫ ডেসিবেলের "সোনিক থাম্প"-এ পরিণত হয়, যা অনেকটা দূরে কোনো প্রতিবেশীর গাড়ির দরজা বন্ধ করার শব্দের সমান।

তবে এর সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো ককপিটে কোনো সামনের উইন্ডশিল্ড নেই। ৩৮ ফুট দীর্ঘ নাকের কারণে সামনের দৃশ্য সম্পূর্ণরূপে আড়াল হয়ে যায়। তাই পাইলট সরাসরি বাইরে না দেখে 4K eXternal Vision System (XVS)-এর সাহায্যে বিমান পরিচালনা করবেন। উন্নত ক্যামেরা ও ডিসপ্লে প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সিস্টেম পাইলটকে সামনের দৃশ্য দেখাবে।

যদি X-59-এর পরীক্ষাগুলো সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থলভাগের ওপর সুপারসনিক যাত্রীবাহী বিমানের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে। এর ফলে নিউইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস বা অন্যান্য দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

#NASA #X59 #SupersonicFlight #Aviation #Technology #LockheedMartin #FutureOfTravel

শেয়ার করুন