স্টারগেটের মূল লক্ষ্য হলো এমন এলাকায় পৌঁছানো, যেখানে প্রচলিত উদ্ধার যান বা মেডিকেল টিম সহজে যেতে পারে না। যুদ্ধক্ষেত্রের অনেক অংশে ড্রোন হামলা, গোলাবর্ষণ এবং মাইনফিল্ডের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে একটি আকাশপথে চলা স্বয়ংক্রিয় উদ্ধার ব্যবস্থা আহত সেনাদের জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
স্টারগেট একটি ছয়-রোটর বিশিষ্ট হেক্সাকপ্টার। এটি প্রায় ১৫০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে, যা একজন পূর্ণ যুদ্ধসজ্জায় থাকা আহত সেনাকে পরিবহনের জন্য যথেষ্ট। ড্রোনটির একমুখী পাল্লা প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে স্থলভিত্তিক রোবট বা উদ্ধার যান অনেক সময় একই দূরত্ব অতিক্রম করতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় নেয়। কিন্তু স্টারগেট কয়েক মিনিটের মধ্যে সেই দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হতে পারে। ফলে গুরুতর আহত সৈন্যদের দ্রুত চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
স্টারগেটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর উন্নত নেভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে Starlink এবং L-Link যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নেভিগেশন সিস্টেম রয়েছে, যা যোগাযোগ বা GPS সংকেত হারালেও নিরাপদে ফিরে আসতে সহায়তা করতে পারে।
তবে প্রযুক্তিটি এখনও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী বলছে, বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এর কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনও আসেনি। তবুও এটি ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে চিকিৎসা ও উদ্ধার ব্যবস্থার জন্য একটি সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্টারগেট প্রমাণ করছে যে আধুনিক যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের প্রতিযোগিতা নয়, জীবন রক্ষার প্রযুক্তিরও প্রতিযোগিতা। যদি এই প্রকল্প সফল হয়, তাহলে আহত সৈন্যদের উদ্ধারে ড্রোন প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে সামরিক বাহিনীর জন্য একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে।