Calcutta Television Network

সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে দান তছরুপের অভিযোগ: ভক্তদের আস্থায় আঘাত

মুম্বইয়ের বিখ্যাত সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে প্রায় ₹১৮ কোটি টাকার দান তছরুপের অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাস্টিদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্স থেকে বিপুল অর্থ গোপনে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এই অভিযোগ সামনে আসার পর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে মন্দিরের গত পাঁচ বছরের হিসাবের অডিটের নির্দেশ দিয়েছেন।  

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগে সাপ্তাহিক দান সংগ্রহ ছিল প্রায় ₹৫০ লক্ষ। কিন্তু কয়েকজন কর্মচারী গ্রেফতার হওয়ার পর সেই সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ₹১.৫ কোটি। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকেই সন্দেহ জাগে যে শুধু নিম্নস্তরের কর্মচারী নয়, বরং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এই তছরুপে জড়িত থাকতে পারেন।  

সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরের আয়ের উৎস বহুমুখী—দানবাক্স, পূজা বুকিং, প্রসাদ বিক্রি, অনলাইন দান এবং সোনা-রূপার উপহার। ২০২২‑২৩ অর্থবছরে মন্দিরের আয় ছিল ₹১০৪ কোটি, ২০২৩‑২৪ সালে তা বেড়ে ₹১৩৭ কোটি এবং ২০২৫‑২৬ সালে পৌঁছেছে ₹১৮২ কোটিতে। এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে সঠিক ব্যবস্থাপনা হলে দানের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।  

ট্রাস্টিরা ইতিমধ্যেই ৪৬ জন কর্মচারীকে বরখাস্ত করেছেন এবং ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলও এই ঘটনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। রাজ ঠাকরে অভিযোগ করেছেন যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে দুর্নীতি ক্রমশ বাড়ছে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।  

এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে ভক্তদের আস্থায়। কোটি কোটি মানুষ সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে দান করেন ভক্তি ও বিশ্বাস থেকে। সেই অর্থ যদি তছরুপ হয়, তবে তা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, আধ্যাত্মিক বিশ্বাসেরও অবমাননা। তাই স্বচ্ছ তদন্ত ও কঠোর শাস্তি ছাড়া এই আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।  

সব মিলিয়ে, সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে দান তছরুপের অভিযোগ শুধু একটি আর্থিক কেলেঙ্কারি নয়, বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার বড় পরীক্ষা।  

#Siddhivinayak #DonationScam #Mumbai #TempleTrust #Audit

শেয়ার করুন