'পিকচার আভি বাকি হে মেরে দোস্ত...', ভূমিকম্প তো ট্রেলার! বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে তুমুল শোরগোল নেটপাড়ায়... ২০২৬ সাল কি সত্যিই পৃথিবীর জন্য অশনি সংকেত বয়ে আনছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সমাজমাধ্যমে। কারণ, ফের আলোচনায় উঠে এসেছেন বুলগেরিয়ার রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গা। যাঁকে অনেকেই ‘বলকানের নস্ত্রাদামুস’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর নামে প্রচারিত এক ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
অনুগামীদের দাবি, ২০২৬ সালে পৃথিবী ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে পারে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের বিস্তীর্ণ অংশে তীব্র ভূমিকম্প, সুনামি কিংবা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এমনও বলা হচ্ছে, পৃথিবীর প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ স্থলভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। চরম আবহাওয়া, বন্যা, খরা... সব মিলিয়ে বাস্তুতন্ত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ভারতের প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও ‘পূর্বের দেশ’ নিয়ে তাঁর কথাবার্তা ঘিরে নানা ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক ছোটখাটো কম্পনের প্রেক্ষিতে অনেকে এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির যোগসূত্র খুঁজছেন। যদিও ভূতত্ত্ববিদদের স্পষ্ট বক্তব্য... নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের ভূমিকম্প আগাম বলা বিজ্ঞানের পক্ষে সম্ভব নয়।
শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগই নয়, ২০২৬-কে ঘিরে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি প্রচারিত হচ্ছে... সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণহীন বিস্তার, এমনকি ভিনগ্রহী মহাকাশযানের আগমন!
তবে বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন, বাবা ভাঙ্গার কোনও লিখিত দলিল নেই। অধিকাংশ ভবিষ্যদ্বাণীই পরবর্তীকালে মুখে মুখে ছড়িয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত হয়েছে। তাই অযথা আতঙ্ক নয়, বরং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি, বৈজ্ঞানিক সচেতনতা এবং তথ্যনির্ভর ভাবনাই হতে পারে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। ভবিষ্যৎ অজানা... এর জন্য আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই... এই বিপদ থেকে বাঁচতে হলে এখন থেকে সতর্ক হতে হবে। তাই আতঙ্ক নয়, এই বিপদ থেকে বাঁচতে প্রস্তুতি নেওয়া হোক আগামী দিনের মূল মন্ত্র।