হিন্দু ধর্মে চৈত্র নবরাত্রি অত্যন্ত পবিত্র একটি সময়। এই নবরাত্রির নবম দিনটি মহানবমী হিসেবে পালিত হয়, যা একই সঙ্গে রামনবমী হিসেবেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে ভক্তিভরে দেবীর আরাধনা করলে জীবনের বহু অমীমাংসিত ইচ্ছা পূরণ হতে পারে। চলতি বছরে ২৭ মার্চ এই শুভ তিথি পড়েছে, আর জ্যোতিষ মতে এদিন পূর্ণবসু ও পুষ্য নক্ষত্রের সংযোগ এবং অতিগণ্ড যোগ তৈরি হওয়ায় দিনটি আরও শুভ বলে মনে করা হচ্ছে।
ধর্মীয় মতে, এই দিনে একটি সহজ টোটকা করলে দেবীর কৃপায় মনস্কামনা পূরণ হতে পারে। এর জন্য প্রথমে একটি লাল কাপড় নিতে হবে। সেই কাপড়ের মধ্যে একটি ১, ২ বা ৫ টাকার কয়েন রাখতে হবে। এরপর একটি কাঁচা হলুদের গাঁট, তিনটি গোটা লবঙ্গ এবং নয়টি অক্ষত চাল কাপড়ের মধ্যে দিতে হবে। সবকিছু রাখার পর একটি লাল সুতো দিয়ে কাপড়টি পুঁটলির মতো বেঁধে ফেলতে হবে।
পুঁটলি বাঁধার সময় ভক্তিভরে মনে মনে নিজের ইচ্ছেটি জানাতে হবে। বিশ্বাস করা হয়, পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে এই প্রার্থনা করলে দেবীর আশীর্বাদ পাওয়া যায়।
এই বিশেষ টোটকা করার জন্য নির্দিষ্ট শুভ সময়ও উল্লেখ করা হয়েছে। ২৭ মার্চ সকাল ৮টা ১০ মিনিট থেকে ১০টা ৮ মিনিটের মধ্যে এই পুঁটলি তৈরি করা সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। পুঁটলি তৈরি হওয়ার পরে সেটিকে কপালে ঠেকিয়ে প্রণাম করতে হবে।
এরপর পুঁটলিটি বাড়ির ঠাকুরঘরের সিংহাসনে বা উত্তর-পশ্চিম কোণে রেখে দিতে হবে। বিশ্বাস অনুযায়ী, যতদিন না মনের ইচ্ছে পূরণ হচ্ছে ততদিন সেটি সেখানেই রাখা উচিত। আর মনস্কামনা পূরণ হয়ে গেলে সেই পুঁটলিটি নদীর জলে ভাসিয়ে দেওয়ার প্রথা রয়েছে।