হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র উৎসবগুলির মধ্যে অন্যতম হল রামনবমী (Ram Navami)। এই দিনেই অযোধ্যায় রাজা দশরথ ও রানী কৌশল্যার ঘরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন রাম (Rama)। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। চলতি বছরে বাসন্তী নবরাত্রির আবহে এই উৎসবকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। শাস্ত্র মতে, এই দিনে নিষ্ঠাভরে পুজো করলে জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভ করা যায়।
রামনবমীর পুজো পদ্ধতিও অত্যন্ত সহজ। সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরতে হয়-সম্ভব হলে হলুদ বা লাল রঙের পোশাক। এরপর পুজোর স্থানে গঙ্গাজল ছিটিয়ে পরিষ্কার করে সেখানে শ্রীরামের ছবি বা মূর্তি স্থাপন করা হয়। ভক্তরা চন্দন, অক্ষত, ফুল, বস্ত্র, ফল ও মিষ্টি নিবেদন করেন। ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে রামের মন্ত্র উচ্চারণ করে আরতি করলে পুজো সম্পূর্ণ হয়। অনেকেই এদিন বাড়ির প্রবেশদ্বার ফুল ও পাতা দিয়ে সাজিয়ে ভক্তিভরে উৎসব পালন করেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র দিনে মাত্র তিনটি কাজ করলে ভগবান রামের আশীর্বাদ লাভ করা যায়। প্রথমত, স্নানের পরে রামচরিতমানস (Ramcharitmanas)-এর বালকাণ্ড পাঠ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এটি মনকে শান্ত করে এবং ইতিবাচক শক্তি বাড়ায়। দ্বিতীয়ত, ১০৮টি তুলসীপাতায় ‘রাম’ লিখে তা ভক্তিভরে শ্রীরামকে অর্পণ করলে ভগবান বিশেষভাবে সন্তুষ্ট হন বলে বিশ্বাস। তৃতীয়ত, কোনও রামমন্দিরে ছোলা ও গুড় দান করা অত্যন্ত পুণ্যজনক বলে ধরা হয়, যা জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি আনতে সহায়ক।
২০২৬ সালে রামনবমী পালিত হবে ২৭ মার্চ। নবমী তিথি শুরু হবে ২৬ মার্চ বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৭ মার্চ বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটে। উদয়া তিথি অনুযায়ী ২৭ মার্চই সারা দেশে এই উৎসব পালিত হবে। একইসঙ্গে এই দিনটি চৈত্র নবরাত্রি (Chaitra Navratri)-র মহানবমী হিসেবেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
ভক্তদের বিশ্বাস, এই পবিত্র দিনে ভগবান রামের আরাধনা করলে জীবনে শান্তি, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির পথ খুলে যায়।