অমাবস্যা ও পূর্ণিমা মানুষের জীবনের সাথে বিশেষ ভাবে জড়িত! সকলেই কম বেশি জানেন যে, চাঁদ ও পৃথিবীর গতির কারণেই অমাবস্যা ও পূর্ণিমা হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক কারণ ছাড়াও এর পিছনে রয়েছে আরও একটি কারণ । চলুন জেনে নিই কী সেই কারণ...
চাঁদ ও পৃথিবীর গতির কারণেই মূলতঃ অমাবস্যা ও পূর্ণিমা হয়ে থাকে। যখন চাঁদ এবং সূর্য একই রেখা বরাবর থাকে, তখন পৃথিবী থেকে চাঁদের কক্ষপথ দেখা যায় না, তাই খালি চোখে চাঁদকে দেখা যায় না, আর এই সময়টিকে বলা হয়ে থাকে অমাবস্যা। অন্যদিকে যখন চাঁদ, পৃথিবীর যে পাশে সূর্য অবস্থিত, তার উল্টো পাশে অবস্থান করে, তখন পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান চাঁদ সূর্যের আলোয় পূর্ণ ভাবে আলোকিত হয়ে একটি গোলাকার চাকতির মতো দেখায়। আর এই সময়কেই বলা হয়ে থাকে পূর্ণিমা। এই পুরো পদ্ধতিটি ৩০ দিনের। কৃষ্ণ এবং শুল্ক নামে দুটি পক্ষে পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ হয়। এবার জেনে নেওয়া যাক অন্য কারণটিও....
ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী চাঁদকে একটি গ্রহ মানা হয়ে থাকে। হিন্দু পুরাণে, চাঁদ অত্যন্ত সুন্দর একজন পুরুষ। প্রজাপতি দক্ষিন তাঁর ২৭ টি কন্যার সাথে বিবাহ দেন চাঁদের। এই ২৭ জন কন্যা হলেন এক একটি নক্ষত্র। জ্যোতিষ শাস্ত্রে এই নক্ষত্রদের খুবই প্রভাব আছে। ২৭ জন পত্নীর মধ্যে চাঁদের পছন্দের ছিল রোহিনী। চাঁদ রোহিনীকে একটু বেশি প্রধান্য দিলে, অন্যজনদের হিংসা হতে থাকে। একটা সময় পর তারা প্রজাপতি দক্ষিনের কাছে নালিশ জানায়। দক্ষিন মেয়েদের অভিযোগ শুনে চাঁদকে ডেকে পাঠান আর চাঁদকে অভিশাপ দেন যে, মাসের অর্ধেক সময় চাঁদের মধ্যে কোনো শক্তি থাকবে না, আর মাসে একদিন চাঁদকে দেখতে পাওয়া যাবে না।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, অমাবস্যা থেকে পূর্ণিমার এই পদ্ধতিটিকে বলা হয় শুল্কপক্ষ। এই সময়ে চাঁদের শক্তি থাকে। আর পূর্ণিমা থেকে অমাবস্যার এই সময়টাকে বলা হয় কৃষ্ণপক্ষ। কৃষ্ণপক্ষে চাঁদের শক্তি একেবারে থাকে না। আর যে একদিন চাঁদকে দেখতে পাওয়া যায় না, সেদিন হল অমাবস্যা।
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, অমাবস্যা পূর্ণিমা নিয়ে বিভিন্ন বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। বিভিন্ন ধর্মালম্বীরাদের অনুষ্ঠান-উৎসবের সময়সূচি নির্ভর করে অমাবস্যা পূর্ণিমার উপর। যেমন মুসলিমরা ঈদলফেতর এবং ঈদ্দুজোহা পালন করে, বৌদ্ধরা বুদ্ধ পূর্ণিমা পালন করে, তাছাড়া হিন্দুদের অমাবস্যা ছাড়া কালীপুজো সম্পন্নই হয় না।
জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, পূর্ণিমা-অমাবস্যা নিয়ে অনেক শুভ-অশুভ মানা হয়ে থাকে। মনে করা হয়, যদি কোনো শিশুর কৃষ্ণপক্ষে জন্ম হয়, তার জন্মছকে চন্দ্রের ক্ষমতা কম থাকে। পাশাপাশি যাদের জন্ম শুক্লপক্ষে হয়, তাদের চন্দ্র শক্তিশালী হয়। অমবস্যায় জন্ম হলে জীবনে অনেক সমস্যায় পরতে হয় ব্যক্তিকে। অনেক জ্যোতিষী বলেন থাকেন চন্দ্রকে শক্তিশালী করার জন্য মুক্তো ধারন করতে, তাছাড়া সোমবার সাদা বস্ত্র ধারন করার কথাও বলেন।