আর কয়েক দিনের অপেক্ষা, তারপরই আসছে বাংলা নববর্ষ। নতুন বছরের শুরুটা শুভ ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক-এই কামনাই করেন সকলেই। জ্যোতিষ ও বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, পয়লা বৈশাখের দিন কয়েকটি বিশেষ নিয়ম মেনে চললে সারা বছর ঘরে সুখ-শান্তি ও আর্থিক স্বচ্ছলতা বজায় থাকতে পারে।
প্রথমেই বলা হয় কুবের যন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা। ধন-সম্পদের দেবতা কুবেরের প্রতীক হিসেবে এই যন্ত্রকে অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়। পয়লা বৈশাখের দিন বাড়ির ঠাকুরঘরে কুবের যন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলে অর্থ সংক্রান্ত সমস্যা কমে এবং সংসারে আর্থিক স্থিতি বজায় থাকে-এমনটাই বিশ্বাস করা হয়।
এছাড়া এদিন গণেশের মূর্তি বাড়িতে আনা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে বাড়ির মূল দরজার সামনে গণেশের মূর্তি রেখে পুজো করলে জীবনের নানা বাধা দূর হয় এবং কর্মক্ষেত্রে উন্নতির পথ খুলে যায় বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
নববর্ষের দিনে খাবারের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানার পরামর্শ দেওয়া হয়। এদিন নিরামিষ আহার করা এবং দেবী লক্ষ্মীকে ভোগ নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ বলে ধরা হয়। ভোগ নিবেদন করার পর সেই প্রসাদ নিজেরাও গ্রহণ করলে তা শুভ ফল বয়ে আনে বলে মনে করা হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তু টোটকা হলো সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালানো। পয়লা বৈশাখের সন্ধ্যায় বাড়ির মূল দরজার সামনে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালালে ইতিবাচক শক্তি ঘরে প্রবেশ করে এবং দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ করা যায় বলে বিশ্বাস।
এছাড়া দেবী লক্ষ্মীর সামনে একটি পান পাতা, কড়ি, এক টাকা এবং হলুদ একটি লাল কাপড়ে মুড়ে রেখে দেওয়ার রীতি রয়েছে। এই উপায়টি সংসারে শান্তি বজায় রাখতে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটাতে সহায়ক বলে অনেকেই মনে করেন।
নতুন বছরের প্রথম দিনটি তাই শুধু উৎসবের আনন্দেই নয়, শুভ শক্তিকে আহ্বান করার এক বিশেষ সময় হিসেবেও ধরা হয়। বিশ্বাস ও আচার মেনে এই ছোট ছোট কাজগুলো করলে বছরজুড়ে সুখ-সমৃদ্ধির আশীর্বাদ মিলতে পারে।