অনেকেই বিশ্বাস করেন যে মানুষের জীবনে গ্রহ–নক্ষত্রের প্রভাব রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে জন্মছকের অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রহ মানুষের স্বভাব, ভাগ্য ও জীবনের ঘটনাপ্রবাহে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শনি, মঙ্গল এবং বৃহস্পতি-এর অবস্থানকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তবে গ্রহদের প্রভাব ভালো রাখতে হলে কেবল আচার-অনুষ্ঠান নয়, ইতিবাচক জীবনচর্চাও জরুরি।প্রথমত, সৎ ও নৈতিক জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়, সৎ কাজ ও মানবসেবার মাধ্যমে নেতিবাচক প্রভাব অনেকাংশে কমে যায়। নিয়মিত দান-ধ্যান, দরিদ্রকে সহায়তা এবং সত্যবাদিতা চর্চা করলে মানসিক শান্তি আসে, যা শুভ শক্তিকে আকর্ষণ করে।দ্বিতীয়ত, প্রার্থনা ও ধ্যান মনকে স্থির করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় প্রার্থনা বা ধ্যান করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। অনেকেই নির্দিষ্ট গ্রহের জন্য নির্দিষ্ট মন্ত্র জপ বা রত্ন ধারণ করেন। তবে এগুলো গ্রহণের আগে অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।তৃতীয়ত, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রয়োজন। বাসা ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখলে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়ে বলে অনেকে মনে করেন। পাশাপাশি নিয়মিত উপবাস বা নির্দিষ্ট দিনে সৎকর্ম করাও কিছু মানুষের বিশ্বাসের অংশ।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের কর্ম। ভালো কাজ, অধ্যবসায় এবং ইতিবাচক মনোভাব জীবনে শুভ ফল বয়ে আনে। শুধুমাত্র গ্রহের উপর নির্ভর না করে নিজের প্রচেষ্টা ও আত্মোন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া উচিত।সবশেষে বলা যায়, গ্রহদের প্রভাব ভালো রাখতে চাইলে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও সচেতন জীবনযাপনই সবচেয়ে বড় উপায়। ইতিবাচক চিন্তা ও সৎ কর্মই জীবনে প্রকৃত সৌভাগ্য নিয়ে আসে।