আমরা অ...">
আমরা অনেকেই মুখের ত্বকের যত্ন নিলেও শরীরের বাকি অংশের ত্বকের যত্ন নিতে ভুলে যাই। তেমন গুরুত্বই দেওয়া হয় না। ফলে ধীরে ধীরে হাত, পা, কনুই, হাঁটু বা গোড়ালির ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও নিস্তেজ হয়ে যায়। আবহাওয়ার পরিবর্তন, কম জল পান করা, অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার বা সঠিক যত্নের অভাব—এসব কারণে শরীরের ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই সুন্দর ও সুস্থ ত্বক পেতে শরীরের ত্বকের নিয়মিত যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। শুরুতেই যেটা বলতা হয় তা হল, পর্যাপ্ত জল পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শরীরের ত্বক আর্দ্র রাখতে ভিতর থেকে হাইড্রেশন দরকার। প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ গ্লাস জল পান করলে ত্বক অনেক বেশি সতেজ ও আর্দ্র থাকে। এছাড়া ফল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাসও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
এরপর সঠিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা দরকার। স্নানের পর পর ত্বক একটু ভেজা থাকে। সেই সময় যে কোনও কিছু খুব ভালভাবে ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। ফলে ওই অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার বা বডি লোশন ব্যবহার করলে তা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে শীতকালে বা শুষ্ক আবহাওয়ায় প্রতিদিন অন্তত দুইবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। নিয়মিত স্ক্রাব করা ত্বকের জন্য উপকারী। শরীরের ত্বকে মৃত কোষ জমে থাকলে ত্বক রুক্ষ ও মলিন দেখায়। সপ্তাহে ১–২ বার হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করলে মৃত কোষ দূর হয় এবং ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়। প্রাকৃতিক স্ক্রাব হিসেবে চিনি ও মধু মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে খুব বেশি গরম জল দিয়ে স্নান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। গরম জল ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে দেয়, যার ফলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যায়। তাই কুসুম গরম জল দিয়ে স্নান করা ভালো। এছাড়া নিয়মিত তেল ব্যবহার করাও উপকারী। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল ত্বকে ম্যাসাজ করলে ত্বক নরম ও পুষ্ট থাকে। রাতে ঘুমানোর আগে তেল ব্যবহার করলে ত্বক বেশি ভালোভাবে পুষ্টি পায়।
সবশেষে বলা যায়, শরীরের ত্বকের যত্ন নেওয়া কোনো কঠিন কাজ নয়। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত জল পান করা, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই ত্বককে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করা যায়। নিয়মিত যত্নই পারে আপনার শরীরের ত্বককে সুন্দর, নরম ও উজ্জ্বল রাখতে।