সুন্দর ও জেল্লাদার ত্বকের(Healthy Skin Secrets) রহস্য কী? এই প্রশ্ন আমাদের সবার মনেই থাকে কম বা বেশি। যখনই আমরা কারও সুন্দর ত্বক দেখি, তাঁকে প্রশ্নটা করেই ফেলি, 'আপনি মুখে কী মাখেন বলুন তো?' কাজেই বলিরেখা হোক বা ত্বকের শুষ্কতা, ত্বকের কালচে ভাব কিংবা হারিয়ে যাওয়া জেল্লা ত্বকের নানা সমস্যার সমাধান খুঁজতে রূপচর্চাপ্রেমীরা এখন ভরসা বাড়াচ্ছে সিরামে।
ভিটামিন সি থেকে রেটিনল বা পেপটাইড, ত্বকের যত্নে নতুন প্রজন্মের মন কেড়েছে রকমারি সিরাম। কারণ সিরাম ক্রিমের চেয়ে বেশি কার্যকরী হওয়াতে ত্বকের গভীরে মিশে যায়, ফলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার উপর কাজ করে।
হাজারো সিরামের ভিড়ে যদি যদি কোনো একটি সিরামকে ঘিরে উপচে পড়া কৌতূহল থাকে তবে তা হলো 'রেটিনল'। বয়সের ছাপকে একটু ধীর করতে এবং ত্বককে সতেজ রাখতে skincare routine-এ জায়গা করে নিয়েছে রেটিনল। বিশেষ করে মধ্যবয়সে পৌঁছনোর পর ত্বকের পরিবর্তন নিয়ে যাঁরা সচেতন, তাঁদের কাছে রেটিনল এখন বেশ পরিচিত নাম।
রেটিনল আসে ভিটামিন এ থেকে। ব্রণ কমানো থেকে বয়সের ছাপ ম্লান করা, ত্বকের হারানো টানটান ভাব ও দীপ্তি ফিরিয়ে আনতে এই সিরামের কদর দিন দিন বেড়েই চলেছে। বলিরেখা থেকে uneven skin texture বয়সের সঙ্গে বদলে যাওয়া ত্বকের যত্নে তাই রেটিনল বেশ পরিচিত নাম।
তবে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার দৌড়ে এখন রেটিনল একা নয়, নাম জুড়েছে পেপটাইডের-ও। পেপটাইডের কাজ হলো ত্বকের অন্যতম গুরুত্বপপূর্ণ প্রোটিন কোলাজেন কে তৈরী করা।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেনের ঘাটতি দেখা যায়। এছাড়াও অতিবেগুমনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকে কোলাজেনের ঘাটতি দেখা যায়। ফলে ত্বক হারাতে শুরু করে তার স্বাভাবিক জৌলুস, দেখা দিতে পারে শিথিলতা ও শুষ্ক বলিরেখা।
পেপটাইড একপ্রকার হালকা সিরাম যার ব্যবহারে ত্বক টানটান হয়। রেটিনল এবং পেপটাইড উভয়ই ত্বক থেকে বয়সের ছাপ কমিয়ে ত্বকের জেল্লা ফেরাতে সাহায্য করলেও এই দুই সিরামের কাজে রয়েছে কিছু পার্থক্য। পেপটাইড বাড়ায় কোলাজেন, আর রেটিনল সাহায্য করে বলিরেখা কমিয়ে ত্বককে সতেজ করে তুলতে।
তাহলে কোন সিরাম বেছে নেবেন?
রেটিনল না পেপটাইড কোন সিরাম ব্যবহার করবেন সেটি নির্ভর করে আপনার ত্বকের প্রয়োজনের উপর। রেটিনল আলোক সংবেদী উপাদান হওয়াতে রাতে ব্যবহার করা ভালো। দিনে ব্যবহার করলেও উপযুক্ত সানস্ক্রিনের সঙ্গে ব্যবহার করা জরুরি।
তা ছাড়া রেটিনল সংবেদনশীল ত্বকে শুষ্কতা ও অস্বস্তি তৈরী করতে পারে তাই এই সিরাম ব্যবহারের পর ময়েশ্চারাইজ়ার লাগানোও জরুরি। অন্যদিকে পেপটাইড ব্যবহার করা তুলনামূলক ভাবে সহজ। কাজেই সংবেদনশীল ত্বকের জন্য পেপটাইড ভালো বিকল্প হতে পারে। অন্যদিকে মুখে ট্যানের দাগ বা বয়সের ছাপ বেশি হলে, রেটিনল তুলনামূলক ভাবে ভালো কাজ করতে পারে।