পরিণীতি চোপড়া, বলিউডের এই অভিনেত্রীর বিয়ে হওয়ার পর থেকে এমনভাবে আর বড় পর্দায় তাকে দেখা যায়নি। তার ওপরে এখন অভিনেত্রী বেজায় ব্যস্ত পরিবারের নতুন সদস্যকে নিয়ে। গত ১৯ অক্টোবর অভিনেত্রীর কোল আলো করে আসে তাঁর একমাত্র পুত্র সন্তান। দেখতে দেখতে সেই নবজাতকের বয়স এখন পা দিয়েছে ২মাসে। যারা অভিনেত্রীকে ফলো করেন তারা জানেন, মা হওয়ার পর থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার কথা সমাজ মাধ্যমে অনুরাগীর সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। এক কথায় বলা যেতে পারে, পরিণীতি এখন অভিনয় জগত থেকে বিরতি নিয়ে মন দিয়েছে দিল্লিতে পাতা সংসারে। তবে জানা যাচ্ছে, মা হওয়ার পর থেকে নাকি অভিনেত্রী অবসাদে ভুগছেন। আর সেই জন্যেই নিজেকে ভালো রাখার জন্য তিনি শরণাপন্ন হয়েছেন ঈশ্বরের।
প্রসঙ্গত, পরিণীতির স্বামী রাজনীতিবিদ ও তিনি নিজে অভিনেত্রী হওয়ায় তাদের মধ্যে বোঝাপড়া রয়েছে খুবই সুন্দর। বিয়ের পর থেকে বেশ অনেকাংশের কাজ কমিয়ে দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, আবার রাজনৈতিক ব্যস্ততা এখন কিছুটা হলেও কমেছে। বলতে গেলে পুত্র সন্তানকে যতটা সম্ভব সময় দিচ্ছে নতুন বাবা-মা। দুজনেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামলাচ্ছেন একরত্তিকে। এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, জীবনের চারিদিকে সুখ থাকা সত্ত্বেও অভিনেত্রী কোন অবসাদে ভুগছেন। জানা যাচ্ছে, সন্তান হওয়ার পর থেকেই অনেক মায়েরা অবসাদে ভুগতে পারেন। চিকিৎসার ভাষায় এটাকে বলে 'পোস্টপার্টম ডিপ্রেশন'।
একটা শিশুকে জন্ম দেওয়ার পরে মায়ের চারিপাশের অনেক কিছুই বদলে যায়। মায়েদের জীবনটা মূলতই হয়ে পড়ে সন্তানকেন্দ্রিক। এত বদলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চাপটা অনেকের জন্যই ডেকে আনতে পারে অবসাদ। অভিনেত্রী জানান, এই অবসাদকে কাটানোর জন্যেই তিনি সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই কিছু মন্ত্র পাঠ করে, যার মধ্যে অন্যতম হলো হনুমান চালিশা। এছাড়াও, কখনো পাখির ডাক কিংবা গান শুনে থাকেন। এত কিছু করা সত্ত্বেও তাকে অবসাদ ঘিরে ছিল। অভিনেত্রী বলেন, তিনি যখন সকালে উঠেন তখন হনুমান চালিশা পাঠ করেন। এই মন্ত্র পাঠ তিনি নিজেকে ভালো রাখার জন্য করে থাকেন। তার কাছে নিজেকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যরও খেয়াল রেখে থাকেন। এটাই অন্য কিছুর থেকে সবথেকে বেশি দরকার।