এখন চলছে ভ্যালেন্টাইন্স উইক। চারিদিকে ভালোবাসার মরসুমে সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, অনেকেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। আবার, কেউ কেউ এমনও রয়েছেন যাঁরা সদ্য বিবাহিত হয়ে এই প্রথমবার তাঁদের স্বামী কিংবা স্ত্রীয়ের সঙ্গে ভালোবাসার দিন উদযাপন করবেন। এই সূত্র ধরে বলা ভালো, গত বছর ৩০ নবেম্বর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন জাদুকর পিসি সরকারের (জুনিয়র) মেয়ে মৌবনী সরকার। হাতে গানে দেখতে গেলে অভিনেত্রীর বিয়ের বয়স এখন মাত্র তিন মাস। তাঁর জীবনে এখন 'হানিমুন পিরিয়ড' চলছে বলা যেতে পারে।
শোনা যাচ্ছে, বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে নাকি তাঁর তৈরী হয়েছে গভীর সম্পর্ক, এখন নিজেকে তিনি অনেকটাই বদলে ফেলেছেন তিনি। মেয়ের এই বদল দেখে অবাক মা জয়শ্রী সরকারও। মৌবনী বলেন, বিয়ের পর তাঁদের প্রেম গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। প্রসঙ্গত, এটা বিয়ের পর তাঁর প্রথম ভ্যালেন্টাইন্স ডে। মৌবনী জানান, তিনি বরাবরই বিয়ে করতে চাইতেন। যদিও জীবনের যাত্রাপথে তাঁর সঙ্গে একাধিক মানুষের আলাপ হয়েছে। কিন্তু, তাঁরা সকলেই মৌবনীর থেকে চেয়েছিল, কিন্তু তিনি সবসময়তেই একসঙ্গে থাকার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছে। তবে, পি সি সরকারের কন্যা যেটা চেয়েছেন সেটাই তাঁর স্বামীর মধ্যে পেয়েছেন। দুজনেই ভিন্ন পেশার মানুষ হলেও তাঁদের মধ্যে বোঝাপড়ার সুবিধা একেবারেই হচ্ছে না।
মৌবনীর সম্বন্ধ করে বিয়ে, একথা কমবেশি সকলেরই জানা। তাই, বিয়ের আগে সেইভাবে মেলামেশা বা প্রেম করার সুযোগ পাননি তিনি। মৌবনী আরও জানান, তিনি বিয়ের আগে নয় বরং বিয়ের পরে সম্পর্কটা বেড়ে ওঠার জায়গা দিতে চেয়েছিলেন তিনি। সৌম অর্থাৎ তার স্বামীও নাকি তাঁর মতোই চিন্তাভাবনার মানুষ। তিনি বিয়েতে বিশ্বাসী। বিয়ের পর তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা বাড়ার সঙ্গে পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীলতা বেড়েছে।
কথায় কথায় তিনি জানান, এখন আর তিনি কিছু একার জন্য কিছু ভাবতে পারছে না। বরং, যা ভাবার দু’জনের জন্য ভাবছেন। রোজই নতুন নতুন রান্না করছেন। যা বিয়ের আগে ছিল একেবারেই ভাবনার বাইরে। মেয়ের এমন পরিবর্তন দেখে অবাক তাঁর মা। অন্যদিকে, আবার প্রেমদিবসের নিয়ে পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, প্রেমদিবসে আগে থেকেই অভিনেত্রীর বর অফিস ছুটি নিয়েছে। তিনি বলেন, প্রেমের দিন বলার তাঁরা এমন কিছুতে বিশ্বাস করেন না। তনুও, এদিন সবাই সবাই মতন করে উদযাপন করেন। তাই, তাঁরাও এদিন গানের অনুষ্ঠানে যাবে। তেমন ব্যাবস্থায় চলছে। আর, তেমন না হলে নতুন কোনও পদ রান্না করা হবে।
মৌবনী আরও জানান, কয়েক দিন আগে তিনি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। খেতে পারছিলেন না। এমন সময়ে তিনি রাতে খাননি বলে তাঁর স্বামীও রাতে কিছু খাননি। এত ভালোবাসা দেখে তিনি খানিক বিব্রত হন বলেই জানান। আসলে তিনি ছোট থেকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, সংসার করতে চেয়েছিলেন। জীবনের যাত্রাপথে যাঁদের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল, তাঁরা সেটা ছাউনি। তবে, এখন এই সম্পর্কে তিনি খুশি আছেন।