২০২৬-এর শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি গায়িকা দেবলীনা নন্দীর। বছরের প্রথমেই সঙ্গীত শিল্পীর জীবনের এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যা কিনা রীতিমতো তাঁর পরিবারের সদস্যদের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঝামেলার কারণে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন দেবলীনা। তবে, বর্তমানে কিছুটা হলেও জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে এসেছেন তিনি। এই পরিবর্তন তাঁর ফেসবুক ভিডিওর মাধ্যমেই বোঝা যায়। এখন গায়িকার সমাজমাধ্যমের পাতা খুললেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, কখনও তিনি লাইফ পারফরম্যান্স করছেন, আবার কখনও বিয়ের সাজে ফটোশুট করাচ্ছেন। এক কথায় বলতে গেলে, নিজের কেরিয়ারকে নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন গায়িকা। এইসব কিছুর মাঝেই সমাজের নানা মহলে জোর গুঞ্জন, দেবলীনা নাকি প্রবাহ অর্থাৎ তার স্বামীর থেকে বিচ্ছেদ চেয়েছেন। একথা সত্যি নাকি গুঞ্জন?
বলাই বাহুল্য, যাঁরা গায়িকার অনুরাগীরা রয়েছেন তাঁরা নিশ্চয়ই খেয়াল করে দেখেছেন বিয়ের পর থেকে গায়িকা অল্প হলেও সিঁথির মাঝখানে সিঁদুর ছোঁয়াতেন। হাতে আবার কখনও কখনও দেখা যেত শাঁখা-পলা। তবে বিগত কিছু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দেবলীনা আর সিঁথিতে সিঁদুর কিংবা শাখা-পলা কোন কিছুই নেই। এই দেখে খুব স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে আগ্রহ জন্মেছে, যা রটেছে তা আদৌ কি ঘটেছে? এ প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য শহরের এক সংবাদমাধ্যম দেবলীনার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে, অবশ্য হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সাড়া দিয়েছিলেন দেবলীনা।
গায়িকা কিংবা তাঁর মায়ের সঙ্গে কোনভাবে যোগাযোগ করা না গেলেও সংবাদ মাধ্যম সংশ্লিষ্ট সোনারপুর থানা সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। সেখানকার পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবলীনা এখনও কোনো মামলা দায়ের করেননি। তবে, প্রবাহের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ করেছিলেন গত জানুয়ারি মাসে। কিন্তু, সেই সময়তেই গায়িকা প্রবাহ এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ৪৯৮ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পুলিস সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, আইনি নোটিস পেয়ে প্রবাহ তাঁর বাবা-মাকে নিয়ে থানায় হাজিরা দেন। এমনকি, তাঁরা পুলিসি তদন্তে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। তবে, প্রবাহকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিসের তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে, গায়িকার বিয়ের সময় পাওয়া যাবতীয় গয়না, টাকা-পয়সা এমনকি আসবাব পর্যন্ত প্রবাহের বাড়ি থেকে ফেরত পেয়ে গেছেন তিনি।