বাঙালির বসন্ত মানেই দোল, আর দোল মানেই যেন এক অনিবার্য নাম- উত্তম কুমার। রুপোলি পর্দার রোমান্টিক নায়ক শুধু সিনেমাতেই নয়, ব্যক্তিজীবনেও দোলযাত্রাকে উপভোগ করতেন নিজস্ব আভিজাত্য আর সহজাত আন্তরিকতায়।
শোনা যায়, দোলের সকালেই ময়রা স্ট্রিটের বাড়ির বারান্দায় ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি পরে দাঁড়াতেন তিনি। অনুরাগীদের কাছে সেই দৃশ্য যেন বসন্তের পূর্ণতা। আবিরের লাল, গোলাপি, সবুজ ছোঁয়ায় আরও মোহময় হয়ে উঠত তাঁর ব্যক্তিত্ব। তবে শুধু রঙ খেলা নয়- অতিথিদের জন্য নিজে হাতে শরবত বানানো, আড্ডায় মেতে ওঠা, খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন- সবকিছুতেই ছিল তাঁর সহজ, আপন মেজাজ। চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মী থেকে পাড়ার সাধারণ মানুষ- সকলের জন্য ছিল তাঁর দরজা খোলা।
অন্যদিকে, মহানায়িকা সুচিত্রা সেন নাকি রঙ খেলায় খুব বেশি আগ্রহী ছিলেন না। পরিবারের সঙ্গে শান্তভাবে দোল কাটাতেন। ফলে পর্দার জনপ্রিয় জুটি বাস্তব জীবনে দোলের রঙে খুব একটা একসঙ্গে মেশেননি বলেই শোনা যায়।
উত্তম কুমারের অভিনীত বহু ছবিতে দোল বা বসন্তের আবহ ধরা পড়েছে বারবার। সপ্তপদী-র সেই বিখ্যাত দৃশ্যে বসন্তের রঙে প্রেম যেন নতুন মাত্রা পায়। আবার হারানো সুর কিংবা বসন্ত বিলাপ-এ বসন্তের গান, প্রেম আর আবেগে তাঁর উপস্থিতি আজও দর্শকের মনে দোলা দেয়। ‘ওগো নিরুপমা’র মতো গান আজও দোলের প্লেলিস্টে অমলিন।
অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবী-র স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে, দোলের দুপুরে গান, গল্প আর হাসির মজলিশে সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন মহানায়ক। স্টারডমের আড়াল সরিয়ে রেখে তিনি হয়ে উঠতেন একেবারে সাধারণ বাঙালি ছেলে- বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে রঙে মাখামাখি, প্রাণখোলা হাসি আর নির্ভেজাল আনন্দে ভরা।
আজ তিনি নেই বহু দশক। তবু দোলের দিনে পুরোনো গান বা সিনেমায় তাঁর মুখ না দেখলে যেন উৎসব অসম্পূর্ণ লাগে। বসন্তের রঙের মতোই তিনি মিশে আছেন বাঙালির স্মৃতি, নস্টালজিয়া আর ভালোবাসায়।