গরমের ...">
গরমের সময় অনেকের শরীরে ছোট ছোট লাল ফোড়া বা ফুসকুড়ি দেখা যায়, যাকে অনেকেই ফোড়ারাঙা বলে থাকেন। এটি মূলত ত্বকের একটি সংক্রমণজনিত সমস্যা। গরমে অতিরিক্ত ঘাম, ধুলোবালি এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে এই রোগটি বেশি দেখা যায়। সাধারণত ত্বকের রোমকূপে জীবাণু ঢুকে পুঁজ জমলে ফোড়া তৈরি হয় এবং আশপাশের অংশ লাল ও ব্যথাযুক্ত হয়ে ওঠে।
কিন্তু কোন কারণে হয় এই ফোড়ারাঙা জানেন?
গরমের সময় শরীরে বেশি ঘাম হয়। ঘাম ত্বকে জমে থাকলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই জীবাণু ত্বকের ছোট রন্ধ্র দিয়ে ভেতরে ঢুকে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এছাড়া শরীর পরিষ্কার না রাখা, দীর্ঘ সময় ভেজা বা ঘামযুক্ত কাপড় পরে থাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশেও ফোড়ারাঙা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আরও একটি কারণ হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া। যাদের ডায়াবেটিস আছে বা যারা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকেন, তাদের শরীরে এই ধরনের সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। অনেক সময় ত্বকে ছোট কাটা বা আঁচড় থাকলেও সেখানে জীবাণু ঢুকে ফোড়া তৈরি হতে পারে। এই সমস্যায় সাধারণত ত্বকে লাল ফোলা দাগ দেখা যায়। পরে সেখানে ব্যথা অনুভূত হয় এবং ধীরে ধীরে পুঁজ জমতে পারে। কখনো কখনো ফোড়া বড় হলে জ্বালা বা অস্বস্তিও বাড়তে পারে।
কিন্তু কীভাবে করবেন এই সমস্যার সমাধান?
প্রথমত, ত্বকের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুবই জরুরি। গরমে প্রতিদিন স্নান করা এবং পরিষ্কার, ঢিলেঢালা কাপড় পরা উচিত। এতে ঘাম কম জমে এবং ত্বক শুকনো থাকে।
দ্বিতীয়ত, ফোড়া হলে গরম জলের সেঁক দিলে ব্যথা ও ফোলা কিছুটা কমতে পারে। তবে ফোড়া নিজে থেকে চাপ দিয়ে ফাটানোর চেষ্টা করা উচিত নয়, কারণ এতে সংক্রমণ আরও ছড়াতে পারে।
তৃতীয়ত, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফল, শাকসবজি এবং হালকা খাবার এই সময়ে উপকারী।
যদি ফোড়া বারবার হয়, খুব বড় হয়ে যায় বা তীব্র ব্যথা হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সব মিলিয়ে বলা যায়, গরমে ঘাম ও জীবাণুর কারণে ফোড়ারাঙা বেশি হয়। তাই নিয়মিত পরিষ্কার থাকা, ত্বকের যত্ন নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে এই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।