ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যা শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকলে তা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, বিশেষ করে কিডনিকে। ডায়াবেটিসের কারণে কিডনির যে ক্ষতি হয় তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Diabetic Nephropathy বলা হয়।
মানবদেহের কিডনি রক্তকে পরিশোধন করে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত জল ও বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। কিডনির ভেতরে লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ফিল্টার থাকে, যেগুলোকে গ্লোমেরুলাস বলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে এই সূক্ষ্ম ফিল্টারগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। ফলে কিডনির স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়।
ডায়াবেটিসের কারণে কিডনির ক্ষতি সাধারণত ধীরে ধীরে হয়। প্রথম দিকে কোনো লক্ষণ তেমন বোঝা যায় না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে প্রস্রাবে প্রোটিন বের হওয়া শুরু করে, যাকে Proteinuria বলা হয়। এটি কিডনি ক্ষতির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। পরে রোগীর শরীরে ফোলা, ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা এবং উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে।
যদি ডায়াবেটিস দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে কিডনি ধীরে ধীরে কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত Chronic Kidney Disease বা কিডনি বিকলের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীর ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।
তবে , সঠিক জীবনযাপন ও নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে ডায়াবেটিসজনিত কিডনি ক্ষতি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করাও জরুরি।
সুতরাং, ডায়াবেটিসকে অবহেলা না করে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে রাখলে কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব।