লবণ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখা, স্নায়ু ও পেশির কার্যক্রম সঠিক রাখতে সহায়তা করে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লবণ খেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। তাই দিনে কতটুকু লবণ খাওয়া উচিত এবং অতিরিক্ত লবণের ক্ষতি সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম লবণ খাওয়া নিরাপদ। এই পরিমাণ প্রায় এক চা-চামচের সমান। এর মধ্যে রান্নার লবণ ছাড়াও আচার, বিস্কুট, চিপস, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা লবণও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বেশিরভাগ মানুষ দিনে প্রয়োজনের দ্বিগুণেরও বেশি লবণ গ্রহণ করে থাকে।
অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো উচ্চ রক্তচাপ। বেশি লবণ শরীরে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে, ফলে রক্তনালিতে চাপ বেড়ে যায়। এর ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, কারণ কিডনি শরীর থেকে লবণ ছেঁকে বের করার কাজ করে। দীর্ঘদিন বেশি লবণ খেলে কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে।
বেশি লবণ শরীরের হাড়ের জন্যও ক্ষতিকর। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করলে শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বের হয়ে যায়, যা হাড় দুর্বল করে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া পাকস্থলীর সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা এবং মুখ ও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য লবণ গ্রহণে সচেতন হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। রান্নায় কম লবণ ব্যবহার, টেবিলে আলাদা করে লবণ না খাওয়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার মাধ্যমে সহজেই লবণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পরিমিত লবণই সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি।