কাজল বা কোল চোখের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য বহুদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অনেকেই বাজারের কাজল ব্যবহার করেন, কিন্তু সেগুলোর মধ্যে অনেক সময় রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে যা চোখের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই অনেকেই এখন ঘরোয়া পদ্ধতিতে কাজল তৈরি করতে আগ্রহী হচ্ছেন। ঘরে তৈরি কাজল সাধারণত প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে বানানো হয়, যা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং কোমল। চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে সহজেই বাড়িতে কাজল বানানো যায়।
একটি ছোট মাটির বা পিতলের প্রদীপ
সরিষার তেল বা ঘি
তুলোর সলতে
একটি ধাতব বা স্টিলের প্লেট
সামান্য নারকেল তেল বা বাদাম তেল
একটি পরিষ্কার ছোট কৌটো
প্রথমে একটি প্রদীপে সরিষার তেল বা ঘি ঢেলে তাতে তুলোর সলতে বসিয়ে জ্বালিয়ে দিন। এরপর প্রদীপের উপরে একটি স্টিলের বা ধাতব প্লেট উল্টো করে ধরে রাখুন। প্রদীপের আগুন থেকে যে ধোঁয়া বের হবে, তা প্লেটের নিচের অংশে জমে কালো কার্বনের মতো একটি স্তর তৈরি করবে। এই স্তরই আসলে কাজলের মূল উপাদান।
প্রায় ১০–১৫ মিনিট পরে প্লেটটি সরিয়ে নিন। দেখবেন প্লেটের নিচে কালো গুঁড়োর মতো পদার্থ জমেছে। এবার একটি পরিষ্কার চামচ বা কাঠি দিয়ে সেই কালো অংশটি সাবধানে তুলে নিন।এরপর সেই কালো গুঁড়োর সঙ্গে এক–দুই ফোঁটা নারকেল তেল বা বাদাম তেল মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন। এতে কাজলটি মসৃণ হবে এবং চোখে লাগানো সহজ হবে। এবার এই মিশ্রণটি একটি পরিষ্কার ছোট কৌটোতে সংরক্ষণ করুন।কাজল ব্যবহার করার আগে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন। একটি পরিষ্কার কাজল স্টিক বা কটন বাড ব্যবহার করে চোখের নিচের অংশে আলতোভাবে লাগান। ঘরে তৈরি কাজল সাধারণত নরম হয়, তাই খুব চাপ দিয়ে লাগানোর দরকার নেই।ঘরে কাজল তৈরি করার সময় সব উপকরণ পরিষ্কার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নোংরা বা জীবাণুযুক্ত জিনিস ব্যবহার করলে চোখে সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া কাজলটি খুব বেশি দিন সংরক্ষণ না করে ১০–১৫ দিনের মধ্যে ব্যবহার করে ফেলা ভালো।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি কাজল প্রাকৃতিক এবং সহজলভ্য উপাদান দিয়ে বানানো যায়। এটি শুধু নিরাপদই নয়, বরং চোখের সৌন্দর্যও বাড়ায়। তাই চাইলে খুব সহজেই বাড়িতে বসে নিজের জন্য বিশুদ্ধ ও প্রাকৃতিক কাজল তৈরি করতে পারেন।