ঘাম হওয়া শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে বেশি ঘাম হলে তা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত ঘামকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় “হাইপারহাইড্রোসিস” বলা হয়। গরম আবহাওয়া, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন বা কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। সঠিক যত্ন নিলে অতিরিক্ত ঘাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
প্রথমেই শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। প্রতিদিন স্নান করুন এবং ঘাম বেশি হলে দিনে একাধিকবার মুখ ও হাত ধুয়ে নিন। পরিষ্কার ও শুকনো কাপড় পরলে অস্বস্তি কম হয়। সুতির পোশাক ব্যবহার করলে শরীরে বাতাস চলাচল ভালো হয় এবং ঘাম দ্রুত শুকিয়ে যায়।
খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত ঝাল খাবার, চা-কফি এবং গরম পানীয় শরীরে ঘাম বাড়াতে পারে। তাই এসব খাবার কম খাওয়াই ভালো। প্রচুর জল পান করলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং জল শূন্যতা দূর হয়।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ থেকেও অনেক সময় বেশি ঘাম হয়। তাই নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন করলে উপকার পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট বা ঘাম নিয়ন্ত্রণকারী পণ্য পাওয়া যায়, যা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ঘাম হলে বা এর সঙ্গে দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া কিংবা জ্বরের মতো সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
সচেতন জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।