শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। রাজ্যের কলেজ সার্ভিস কমিশন (CSC) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুতেই অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে নিয়োগ করা হবে। রাজনৈতিক অঙ্গন যখন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই শিক্ষা মহলে এই ঘোষণাকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ২৭তম স্টেট এলিজিবিলিটি টেস্ট (SET)। এর ফলাফল প্রকাশ করা হবে জানুয়ারি মাসে। কমিশনের তরফে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রকাশ করা হবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। ফলে ২০২৬ সাল শুরু হতেই রাজ্যের কলেজগুলোতে বহু প্রতীক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
বহু বছরের শূন্যপদ পূরণ
২০২১ সালের পর থেকে নতুন কোনও প্রফেসর নিয়োগ হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে শূন্যপদের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। আগামী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই শূন্যপদগুলিই মূলত পূরণ হবে বলে অনুমান। শুধু ২০২৫ সালের সেট (SET) উত্তীর্ণরাই নয়, ২০২১ সালের পর থেকে যাঁরা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁরাও সমানভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন।
আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
২৭তম সেট পরীক্ষার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছিল ১ অগস্ট থেকে এবং চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। কোনও ভুলভ্রান্তি থাকলে ১৬ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশোধনের সুযোগ থাকছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শর্তসাপেক্ষে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি আবশ্যক। ন্যূনতম ৫৫ শতাংশ নম্বর থাকা চাই স্নাতকোত্তর স্তরে। পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও এই পরীক্ষায় বসতে পারবেন।
পরীক্ষা কাঠামো ও বিষয়সমূহ
মোট ৩৩টি বিষয়ে দুটি পত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। বাংলা, ইংরেজি, সংস্কৃত, হিন্দি, উর্দু, ইতিহাস, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে শুরু করে বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, আইন, পরিবেশ বিজ্ঞান, সাংবাদিকতা, সাঁওতালি- নানা বিষয়ে পরীক্ষার আয়োজন থাকবে। তবে তালিকায় যেসব বিষয় নেই, সেসব বিষয়ে স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণরা SET দিতে পারবেন না। তাছাড়া পূর্বে যাঁরা কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে SET উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁরা একই বিষয়ে নতুন করে পরীক্ষা দিতে পারবেন না।
পরীক্ষার কেন্দ্র ও ফি
রাজ্যের ২৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৪০০ টাকা, যা গতবারের তুলনায় ১০০ টাকা বেশি।
বিধানসভা ভোটের আগেই শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ একদিকে যেমন শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক সমীকরণেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।