শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়ানোর পরেই পাল্টা দাবি করলেন তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, অভিষেকের নির্দেশে নয়, তৃণমূলের তৎকালীন কোষাধ্যক্ষের নির্দেশেই দলীয় অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করতেন সুমিত। আর সেই সূত্রেই নাম উঠে এসেছে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের।
শনিবার সিআইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, জেরায় সুমিত জানিয়েছেন সাংসদ অভিষেকের নির্দেশে তাঁর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচিত 'টি ঘোষ' নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি তৃণমূলের দলীয় তহবিলে জমা করেছিলেন। রবিবার সিআইডি দফতরে সুমিতের সঙ্গে দেখা করার পর এই দাবি খণ্ডন করেন তাঁর আইনজীবী অগ্নিশ বসু। আইনজীবীর দাবি, দলের আর্থিক বিষয় দেখার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে কোষাধ্যক্ষের। দলীয় সংবিধানেও তাই বলা আছে। এই বিষয়ে অন্য কারও হস্তক্ষেপ থাকে না। তাঁর কথায়, 'দলের কোষাধ্যক্ষই আর্থিক বিষয়গুলি দেখেন। এটাই সুমিত রায়ের বক্তব্য। কোষাধ্যক্ষ যেমন নির্দেশ দিতেন, উনি তেমনভাবেই পার্টি ফান্ডে টাকা জমা করতেন।'
তাঁর আরও দাবি, যে নগদ টাকা আসত, তা পুরোটাই বৈধ পথে দলীয় ফান্ডে জমা করা হতো। প্রতি বছর সেই টাকার অডিট হতো এবং অডিট রিপোর্ট আয়কর দফতর ও নির্বাচন কমিশনকে জানানো হতো। ফলে এখানে বেআইনি কিছু নেই। তবে এই 'টি ঘোষ' কে, সেই নিয়েও ব্যাখ্যা দেন আইনজীবী। তাঁর কথায়, “উনি কোনও ক্যাশিয়ার নন। উনি তখন দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তমোনাশ ঘোষ।”
প্রসঙ্গত, ফলতার প্রাক্তন বিধায়ক তমোনাশ ঘোষ ২০২০ সালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন। অরূপ বিশ্বাসের আগে তিনিই ছিলেন তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ। সিআইডির চার্জশিট অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে শালবনির জমি জালিয়াতি হয়েছে। সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে জমা পড়া চার্জশিটে সিআইডি জানিয়েছে, ওই সময়কালে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নামে থাকা অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭ কোটি টাকা দফায় দফায় জমা করেছিলেন সুমিত। সিআইডির দাবি, সুমিত বলেছেন ওই টাকা তিনি অভিষেকের নির্দেশে এবং টি ঘোষের দেওয়া টাকা থেকেই জমা করেছিলেন।যদিও আইনজীবীর পাল্টা যুক্তি, 'সিআইডি বলছে ২০১৮ সাল থেকে ক্যাশ ডিপোজিট করা হত। যখন যিনি কোষাধ্যক্ষ ছিলেন, তাঁর কাছেই দায়িত্ব ছিল। কোষাধ্যক্ষের নির্দেশেই সুমিত রায় টাকা জমা করতেন।'