আরও পাঁচ মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। বর্তমানে জেলবন্দি তিনি। সোমবার সকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের আদালতে বিষয়টির উল্লেখ করেন তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। বক্তব্য শোনার পর মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি। আগামীকাল, মঙ্গলবার মামলাটির শুনানি হবে।
গত শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় মিলনকে। পুলিসের দাবি, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কার একটি পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার আদালতে আইনজীবী অয়ন সওয়াল করেন, 'একটি মামলায় ইতিমধ্যেই আমার মক্কেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও পাঁচটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। ওই পাঁচ মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া হোক। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তিনি।'
প্রসঙ্গত, মনোনয়ন পর্ব থেকেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি। প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের টানাপোড়েনের মধ্যেই প্রকাশ্যে আসে তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাতের ছবি। সেই ছবি সামনে আসার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই শুক্রবার দুপুরে ভোট থেকে সরে দাঁড়ান সঞ্চিতা। এর কিছুক্ষণ পরেই মমতা সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেন, তাঁর দল নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকেই সমর্থন করবে। আর সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হন মিলন।
পুলিস সূত্রে খবর, ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মিলনের বিরুদ্ধে চারটি খুনের অভিযোগ-সহ খুনের চেষ্টা, অপহরণ, প্রমাণ লোপাট এবং অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়েছিল। তিনটি এফআইআর হয়েছিল নন্দীগ্রাম থানায়, একটি খেজুরি থানায়। দীর্ঘদিন ধরেই ওই মামলাগুলিতে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুরনো পরোয়ানা কার্যকর করতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিসের। শনিবার হলদিয়া মহকুমা আদালত তাঁকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠায়। রবিবার আরও একটি মামলা যুক্ত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে পাঁচ।