বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল: রাজ্যে আইনের শাসন চলবে, শাসকের আইন নয়। ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি রাখল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বিধানসভার ফল বেরনোর পর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উপর ভোট-পরবর্তী হিংসা তথা আক্রমণ হয়নি কোথাও। বরং, কোথাও-কোথাও বিজেপি কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন।
সম্প্রতি, নিউটাউনে এক বৃদ্ধার ফ্ল্যাট দখল করে রাখার অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মী বরুণ দাসের বিরুদ্ধে। বৃদ্ধার অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ টাউন থানার পুলিস তাঁকে গ্রেফতার করে।
বরুণ দাসের গ্রেফতারির ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, এক পুলিস আধিকারিক তাঁকে থানায় নিয়ে যেতে এসেছেন। দু-পক্ষের মধ্যে চলছে বাদানুবাদ। পুলিসের কথা শুনতে মোটেও রাজি হচ্ছেন না বরুণ দাস। এমতাবস্থায়, শাসকদলের কর্মী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে রীতিমতো পাকড়াও করে পুলিসের গাড়িতে তোলা হয়। যা দেখে নাগরিক সমাজের একটা বড় অংশই বিস্মিত হয়। কারণ, গত ১৫ বছরে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় শাসকদলের চুনোপুঁটি নেতাকর্মীদের সামনেও মিউ-মিউ করে হাত-কচলাতে দেখা গেছে পুলিসকে। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা খাস কলকাতার আলিপুর থানা আক্রমণ করলে নিজের প্রাণ বাঁচাতে কলকাতা পুলিসের এক কর্মীকে টেবিলের তলায় লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়। শুধু তা-ই নয়। বীরভূমে শাসকদলের হামলায় নিহত হন এএসআই পদমর্যাদার এক পুলিস। শাসকদলের খেলা-মেলায় তারস্বরে বাজে-থাকা মাইক পর্যন্ত বন্ধ করার সাহস পায় না পুলিস, অভিযোগ আসা সত্ত্বেও।
প্রসঙ্গত, নিউটাউনের একটি আবাসনে ৮০ বছরের চিকিৎসক-বৃদ্ধার সঙ্গে তাঁর ভাড়াটিয়ার বচসা হয়। স্থানীয়রা কেউ কেউ সেখানে হাজির হন। খবর যায় নিউটাউন থানায়। সঙ্গে-সঙ্গে পুলিস চলে আসে ঘটনাস্থলে। এবং, কালক্ষেপ না-করে একেবারে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তোলা হয় তাঁকে।
এমতাবস্থায়, বিজেপির ওই কর্মীকে ঘিরে চোর-চোর স্লোগান ওঠে। শুরু হয় ডিম-থেরাপি। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে অভিযুক্ত জানান, বিষয়টি বিচারাধীন তাই কোনও মন্তব্য করতে চান না। পুলিসের বক্তব্য, বিচারাধীন বিষয় ঠিকই। তবে একজন ৮০ বছরের বৃদ্ধার সঙ্গে যেভাবে চোটপাট করেন অভিযুক্ত, তা কার্যত হুমকির সামিল।
সাংবাদিকদের কাছে বৃদ্ধার দাবি, কয়েক লক্ষ টাকা ভাড়া বাকি বরুণের। এমনকি, বরুণের ফ্ল্যাটের রক্ষণাবেক্ষণ ও পৌরসভার কর পর্যন্ত তাঁকেই দিতে হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সক্রিয় বিজেপি কর্মী হওয়া সত্ত্বেও পুলিস যেভাবে পাকড়াও করল বরুণকে, তা আদতে আইনের শাসনকেই সুনিশ্চিত করে। এবং, সেই সঙ্গে বুঝিয়ে দেয়, শাসকের আইন বলে কিছু নয় না।