Calcutta Television Network

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু, প্রয়োজনীয় ওষুধে টান! ওড়িশা ও উত্তরপ্রদেশের দিকে তাকিয়ে বাংলা

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু, প্রয়োজনীয় ওষুধে টান! ওড়িশা ও উত্তরপ্রদেশের দিকে তাকিয়ে বাংলা
2 September 2026 03:50:34 pm

বর্ষার মরশুমে অন্যতম আতঙ্কের নাম ডেঙ্গি। প্রতি বছরই মশা বাহিত এই রোগে আক্রান্ত হন বহু মানুষ। কিন্তু এই রোগের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি এখন‌ও অধরা। তাই উপসর্গের নিরিখে রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি বিচার করে চিকিৎসা করা হয়। যার পরিভাষাগত নাম, 'সিম্পটোম্যাটিক ম্যানেজমেন্ট'। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধের জোগানে। তাই বর্তমানে চিকিৎসা পরিকাঠামো ও ওষুধের ঘাটতি মেটাতে বাংলা ও উত্তরপ্রদেশের দিকেই তাকিয়ে বাংলা। 

কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি?

ডেঙ্গুর চিকিৎসা করতে মূলত নর্মাল স্যালাইন (এন‌এস), রিঙ্গার ল্যাকটেট (আর‌এল) এবং জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল‌ই মূল ওষুধ। কিন্তু রাজ্যের যে তিন সংস্থা এই সব ওষুধের জোগান দিত, ঘটনাচক্রে তাদের সকলকেই উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল। তাই এই তিন ওষুধের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই চাহিদা অনুযায়ী, যোগান মেটাতে প্রতিবেশী রাজ্যের উপর ভরসা করতে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গকে। 
সাধারণ ভাবে বৃষ্টি বন্ধ হলেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় নিজেই জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—এই তিন মাস রাজ্যে ডেঙ্গির মরসুম। দুই গোত্রের মশা ডেঙ্গির জীবাণু বহন করে—এডিস ইজিপ্টাই এবং এডিস অ্যালবোপিক্টাস। এমতাবস্থায় মশার বংশবিস্তার রুখতে মঙ্গলবার একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের‌ পাশাপাশি পুর ও নগরোন্নয়ন, সেচ, পরিবহণ দফতর, কলকাতা, হাওড়া পুরনিগম-সহ রাজ্যের ২১টি পুরসভার আধিকারিকরা ছিল বলে খবর সূত্রের। সেই বৈঠকেই ডেঙ্গির মূল ওষুধ সরবরাহে বাংলা যে ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশের কথা পেশ করা হয়। 

জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্য়েই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বরাত দেওয়া হয়েছে ওড়িশার ইনফিউনেক্স প্রাইভেট লিমিটেডকে। কিন্তু ডেঙ্গির মরসুমে শুধু একটি সংস্থার পক্ষে সরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ফ্লুইডের সব চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। তাই এন‌এস, আর‌এল এবং প্যারাসিটামল ইনফিউশনের জন্য উত্তরপ্রদেশের সংস্থা কুণাল রেমিডিজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। প্রশ্ন হল, এর পর‌ও কি ঘাটতি মিটবে। স্বাস্থ্য ভবনের এক শীর্ষ আধিকারিক অবশ্য দাবি করছেন, কোথাও কোন‌ও‌ ঘাটতি নেই।

স্বাস্থ্য ভবনের হিসেব বলছে, সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রতি বছর ৬ লক্ষ ইউনিট আরএল এবং ২ লক্ষ ইউনিট এন‌এস লাগে। প্যারাসিটামল ৬৫০ ট্যাবলেটের প্রয়োজন হয় আড়াই কোটি। প্যারাসিটামল ৫০০ ট্যাবলেট ১ কোটি হলেই চলে। প্যারাসিটামল ইনফিউশন দরকার হয় ৬ লক্ষ ইউনিটের মতো। ওড়িশার সংস্থাটি ইতিমধ্যে ১ লক্ষ ইউনিট ফ্লুইড সরবরাহ করেছে। উত্তরপ্রদেশের সংস্থাটিও ১০ দিনের মধ্যে এন‌এস, আর‌এল এবং প্যারাসিটামল ইনফিউশন সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে। এর পাশাপাশি, বেহালার ড্রাগ কন্ট্রোল সংস্থাটিও কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তাতে যদি ড্রাগ কন্ট্রোল ছাড়পত্র দেয়, তা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে দাবি স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে।

Related Posts
×
  • CTVN