নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার সম্ভাব্য শুনানি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে। কমিশন জানায়, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে দুটি বিবদমান গোষ্ঠীর দাবি উঠেছে - একটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এবং অন্যটি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন। এই বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষই 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং 'ঘাসের উপর জোড়া ফুল' প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশন জানায়, বিষয়টি ১৯৬৮ সালের নির্বাচনী প্রতীক সংরক্ষণ ও বণ্টন আদেশের ১৫ নম্বর ধারার অধীনে চূড়ান্ত শুনানি প্রয়োজন।
এরপর শুক্রবার, কমিশন দুই শিবিরকে উপনির্বাচনের জন্য আলাদা নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করে দেয়। কালীঘাট শিবিরের নতুন নাম হয় 'মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' এবং প্রতীক হয় 'ফুটবল প্লেয়ার'। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরকে দেওয়া হয় 'ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং 'খাম' প্রতীক। এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা আগামী ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য হবে।
এমতাবস্থায় কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে 'দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে কালো দিন' বলে তীব্র সমালোচনা করেন মমতা। তিনি বলেন, দলের পরিচয় হারানো মায়ের সন্তান হারানোর যন্ত্রণার মতো। মমতার হুঙ্কার, তিনি এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা মানবেন না এবং রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
সেই ঘোষণা মতোই শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন মমতা। ডায়েরি নম্বর ৫৮০০৫/২০২৬ হিসাবে নথিভুক্ত হওয়া এই মামলায় নির্বাচন কমিশন, কমিশনের সচিব এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পার্টি করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কমিশন দলের সাংগঠনিক কাঠামো খতিয়ে না দেখেই এবং দলত্যাগ বিরোধী আইনে অভিযুক্ত বিদ্রোহী বিধায়কদের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে।