পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শনিবার সকাল হতেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একযোগে অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর একাধিক ঠিকানায় একসঙ্গে তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, ভবানীপুর, কালীঘাট, জোকা এবং দক্ষিণেশ্বরে মদন মিত্রের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় পৌঁছেছেন তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা বলয়ে সকাল থেকেই চলছে নথি খতিয়ে দেখা, জিজ্ঞাসাবাদ এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ। বর্তমানে ভবানীপুরের ফ্ল্যাটে পরিবারের সঙ্গে থাকা মদন মিত্রকেও দীর্ঘক্ষণ ধরে জেরা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রে দাবি, তল্লাশি অভিযানে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি বিধায়কের সঙ্গে যুক্ত ৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যও হাতে এসেছে তদন্তকারীদের। সেই সমস্ত লেনদেন এখন খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই অভিযানের সূত্র খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ২০২৩ সালের মার্চ মাসে। সেবার গ্রেপ্তার হন অয়ন শীল নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ, তাঁর সংস্থার মাধ্যমে রাজ্যের অন্তত সাতটি পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হত। ওএমআর শিট ছাপানো, লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউয়ের যাবতীয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল সেই সংস্থার উপর। তদন্তে উঠে আসে, গ্রুপ-ডি কর্মী, টাইপিস্ট-সহ একাধিক নিম্নপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সেই সাতটি পুরসভার মধ্যে ছিল কামারহাটি পুরসভাও। অভিযোগ, নিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অয়ন শীলের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য এবং নথির সূত্র ধরেই এবার মদন মিত্রের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই কামারহাটি পুরসভার একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন আধিকারিক তদন্তের আওতায় এসেছেন। কয়েকদিন আগেই পুরসভার এক আধিকারিকের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতাতেই এবার সরাসরি বিধায়কের দরজায় পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।যদিও এখনও পর্যন্ত মদন মিত্র বা তাঁর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এই তল্লাশি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এই অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। ভোরের কলকাতায় ইডির এই অভিযান ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল— পুরনিয়োগ দুর্নীতির জাল ঠিক কতদূর বিস্তৃত? আর সেই জালের শেষ প্রান্তে কি পৌঁছতে চলেছেন তদন্তকারীরা? এখন নজর তল্লাশি শেষে ইডির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।