ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর খাল থেকে উদ্ধার হল মৃতদেহ। ত্রিকোণ প্রেমের জেরে খুন যুবক? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবক হুগলির ধনিয়াখালি থানার মির্জানগর গ্রামের বাসিন্দা। নাম সূর্যকান্ত মাঝি (২১)।
গত ১৯ জুলাই সূর্যকান্ত শিবাই চন্ডী স্টেশন যাবে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সন্ধ্যা বেলায়। পরে জানা যায় দাদপুর থানার মাকালপুর গ্রামের বাসিন্দা যুবক রাহুল রায়ের সঙ্গে তাকে দেখা গিয়েছিল শেষ বার। ঘটনার দিন সূর্যকান্ত মাঝি, রাহুল ধারা আর গোবিন্দ খাঁ তিনজনে মদ-মাংস খায়। এরপর সূর্যকান্ত বাড়ি চলে যায়।
রাতে বাড়ি না ফেরায় খোঁজ শুরু করে পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসীরা। জানা যায় সূর্যকান্তের সঙ্গে গ্রামেরই এক বিধবা তরুণী সুমনা কোটালের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের আগেও দুজনের সম্পর্ক ছিল। কয়েক মাস আগে তরুণীর স্বামী মারা গেলে আবার সূর্যকান্তের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হয়। সেই সম্পর্কে তৃতীয় একজন প্রবেশ করে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার বাসিন্দা গোবিন্দ খাঁ (রাহুল) আর ওই তরুনী সিঙ্গুরের মির্জাপুরে একটি ছাতা কারখানায় কাজ করে। সেখানে তাদের সম্পর্ক তৈরী হয়।
ধনিয়াখালি থানায় অভিযোগ হওয়ার পরই পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। মাকালপুর যেহেতু দাদপুর থানার মধ্যে পড়ে, দাদপুর থানাও একযোগে তদন্ত চালাতে থাকে। মাকালপুরে যেখানে শেষবার দেখা গিয়েছিল সূর্যকান্তকে সেই এলাকায় একটি বড় খাল রয়েছে। কচুরি পানায় ঢাকা। সেই খাল পাড়ে তার জুতো পাওয়া যায়।
গ্রামবাসী ও পরিবারের দাবী মেনে পুলিশ স্নিফার ডগ নিয়ে এসে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি খালে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের কর্মীদের নামায়। ড্রোন ক্যামেরা উড়িয়েও চলে তল্লাশি। কিন্তু খালে কচুরিপানা অতি ঘন হওয়ায় কোনো সূত্র পাওয়া যায়না।
নিখোঁজের পরদিন অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ যুবকের প্রেমিকা সহ আরও দুই জনকে গ্রেফতার করে নয় দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যায়। অবশেষে ছয় দিন পর শনিবার মাকালপুরের ওই খাল থেকেই সূর্যকান্তের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠায় দেহ ময়নাতদন্তের জন্য। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।