মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়াল বিরোধীরা। ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে তাঁর ইস্তফার দাবিতে এবার একযোগে রাজপথে নামার ঘোষণা করল INDIA জোট।
বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসেছিল বিরোধী জোটগুলি। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ ১৯টি দল ওই বৈঠকে যোগ দেয়। অনুপস্থিত ছিল ডিএমকে এবং আপ। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া বৈঠক চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে জানান, ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তী থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ করবে জোট। ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর নির্বাচন সদন পর্যন্ত মিছিল করবেন INDIA জোটের সাংসদরা। এছাড়া অক্টোবর-নভেম্বরে দেশের পাঁচটি বড় শহরে জনসভা এবং ১ জানুয়ারি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হবে। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে গোটা বিষয়টি জানানো হবে।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি CEC-কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “বাংলায় ওরা লুট করেছে। জ্ঞানেশ কুমার একজন চোর। উনি ইভিএম পুড়িয়েছেন। অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।”
এরপর বক্তব্য রাখেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর কথায়, “যারা দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করছে, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তারা যত বড় পদেই থাকুক না কেন, দেশের গণতন্ত্র ব্যক্তির চেয়ে অনেক বড়।”
খড়্গে অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের ভিতরে দু-তিনজন দাবার ঘুঁটি হিসেবে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁদের পুতুলের মতো চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, “সব বিরোধী দল একসঙ্গে এই লড়াই লড়বে। রাহুলজি এবং দিদি যে ভোটচুরির কথা প্রথম বলেছিলেন, আজ তা সকলেই মানছেন।” সুপ্রিম কোর্টে SIR সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এদিনের বৈঠক থেকে চার দফা দাবি তোলা হয়েছে - প্রাক-SIR ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোট করাতে হবে, নাম বাদ দেওয়ার আগে নোটিস দিতে হবে, বৈধ ভোটারদের আইনি সুরক্ষা দিতে হবে এবং ইভিএম বাতিল করে ব্যালটে ভোট করাতে হবে।
এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের এমএ বেবি, সিপিআইএমএল-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লা, পিডিপির মেহবুবা মুফতি, এনসিপি (এসপি)-র সুপ্রিয়া সুলে। সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন অখিলেশ যাদব। সোনিয়া গান্ধীর একপাশে মমতা এবং অন্য পাশে মেহবুবাকে বসতে দেখা যায়। তৃণমূলের তরফে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, বৈঠকে মমতা অভিযোগ করেন, বাংলায় বিজেপি স্বৈরতন্ত্র চালাচ্ছে এবং তাঁকে বাড়ি থেকে বেরোতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।