ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ী খুনের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় কলকাতা পুলিসের ট্রাফিক সার্জেন্ট ও এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার ধৃতদের জেরা করেই একাধিক তথ্য সামনে এল।
ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রে খবর, এই হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রী রাঘবের কাছে নিহত ব্যবসায়ী নিখিল সবলোকের প্রতি মুহূর্তের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন পৌঁছে দিতেন ধৃত ট্রাফিক সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত। অন্যদিকে রাঘবের 'ঘনিষ্ঠ' হিসেবে পরিচিত টুইঙ্কলের অনুরোধ ও সুপারিশেই অয়ন নিজের প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এই বেআইনি কাজ করত বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। আর এই তথ্য সামনে আসার পরেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য পুলিস প্রশাসন। আইনের সেবক হয়ে এমন কাজ কীভাবে করতে পারল ধৃত! তা ভাবাচ্ছে বাকিদের।
গত ২৪ অগস্ট জাতীয় সড়ক-৩৩-এর ধারে চাণ্ডিল থানা এলাকার একটি হোটেলের সামনে নিখিলকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। ব্যবসায়ীর কাঁধ, পিঠ ও ঘাড়ে গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে জামশেদপুরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ১৫ লক্ষ টাকা সুপারির বিনিময়ে খুন করা হয় নিখিলকে। আর এই নিখুঁত পরিকল্পনার নেপথ্যে ট্রাফিক সার্জেন্টের পাঠান টাওয়ার লোকেশন মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হয়েছে বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের খবর, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ছ’জনকে গ্রেফতার করে পুলিস। এই ছ’জনের মধ্যে পেশাদার খুনিও রয়েছে। ঝাড়খণ্ড পুলিসের তদন্তে উঠে আসে যে, সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার হওয়া এক ব্যক্তি ওই ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে গিয়েছিলেন। পুলিস সূত্রে খবর, সন্দেহভাজন ওই অভিযুক্ত অন্যতম খুনি। পরে দেখা যায়, তার সঙ্গে ওই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারেরও যোগাযোগ ছিল। পরে ওই দুজনের গ্রেফতারির পর ধৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮।