Calcutta Television Network

আমেরিকার 'প্রতিপক্ষ' দেশের রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে খোশমেজাজে মোদী! বিশ্ব কূটনীতিতে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিল্লির?

আমেরিকার 'প্রতিপক্ষ' দেশের রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে খোশমেজাজে মোদী! বিশ্ব কূটনীতিতে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিল্লির?
12 September 2026 05:54:21 pm

শনিবার থেকে দিল্লিতে শুরু হল ব্রিকস সম্মেলন। সেই উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে ভারতে এসে উপস্থিতি হয়েছেন ব্রিকস সদস্য দেশের রাষ্ট্রনায়করা। এসেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অন্যদিকে আজই দিল্লিতে অবতরণ করবে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ইতিমধ্যেই ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে একটি ফ্রেমে মোদী, পুতিন ও পেজেশকিয়ানকে দেখা গিয়েছে একসঙ্গে, খোশমেজাজে। এক কথায় এই ছবি আন্তর্জাতিক স্তরে যে বিশেষ বার্তা বহন করছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। 
গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার পুতিন ও পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথকভাবে একপ্রস্থ বৈঠক সেরেছেন মোদী। ওই বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, সামরিক পরিকাঠামো ও পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর সূত্রের। পাশাপাশি পণ্যবাহী জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রাধান্য পায় মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠকে।

অন্যদিকে ভারতের দুই 'মিত্র' রাষ্ট্র ইরান ও রাশিয়া আমেরিকার প্রধান 'প্রতিপক্ষ'। রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক টানাপড়েন নতুন না। বিশেষ করে ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পরে দু’দেশের চাপানউতর আরও বেড়েছে। অন্য দিকে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের সঙ্গেও সংঘাতে জড়িয়েছে ওয়াশিংটন। এই অবস্থায় ব্রিক্‌স সম্মেলন শুরুর আগে রুশ এবং ইরানি রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে মোদীর বৈঠক আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে অনেকে।

এদিন পুতিনের সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিটের বৈঠক সেরে তাঁর সঙ্গে একই গাড়ি চেপে মোদী পৌঁছোন ব্রিক্‌স বিজনেস ফোরামে। সেখানে অন্য রাষ্ট্রনেতারাও ছিলেন। ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের হাত ধরে ব্রিক্‌স বিজনেস ফোরামে প্রবেশ করেন মোদী। ওই মঞ্চ থেকে আমেরিকাকে নিশানা করেন পুতিন-পেজেশকিয়ান। বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর বিরুদ্ধে সরব হন তাঁরা। উভয়েরই মূল বক্তব্য, কোনও দেশের অর্থনীতিকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী সেখানে নিরাপদ সমুদ্রপথের উপরে জোর দেন। তিনি বলেন, 'পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকলে এবং নাবিকেরা নিরাপদ থাকলে, তবেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উন্নতি হবে। সেই জন্যই অবাধ জাহাজ চলাচল এবং নাবিকদের নিরাপত্তা চায় ভারত।'
 

Related Posts
×
  • CTVN