ভুয়ো ডাক্তারে ভরেছে রাজ্য। পেটে 'ব' বিদ্যা নেই অথচ নামের পাশে বসেছে এমবিবিএস ডিগ্রি! কোনক্রমে ভিনরাজ্যে ডাক্তারি পাস করার ভুয়ো ডিগ্রি জোগাড় করে চলছে দেদার ব্যবসা। আর এইসব কিছুর নেপথ্যেই রয়েছে মোটা অঙ্কের 'ঘুষে'র লেনদেন। সেই 'ঘুষ' দিয়েই রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংগ্রহ হয়েছে বলে অভিযোগ।
সূত্রের খবর, মোটা টাকার বিনিময়ে মিলত ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নম্বর। মাথা পিছু প্রায় দশ লক্ষ টাকা ধার্য করা হত। এই চক্রের নেপথ্যে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের যোগ রয়েছে বলেই অভিযোগ। এমতাবস্থায় এই চক্রের মাথা খুঁজতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে তদন্ত চেয়ে চিঠি দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিং হোম। ডা. রাজীব পাণ্ডে জানিয়েছেন, অবিলম্বে মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরাতে হবে ডা. সুদীপ্ত রায়, ডা. সুশান্ত রায়দের। তাঁর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ওই দু'জনকে সরানো দরকার।
অন্যদিকে এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই সামনে এসেছে দুই 'ভুয়ো' ডাক্তারের নাম। একজন ডা. জুলফিকার মণ্ডল (মেডিক্যাল কাউন্সিল রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৯০২১)। অন্যজন ডা. শেখ সাইদুর হক (ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮০১৯৮)। জানা গিয়েছ, ডা. জুলফিকার মণ্ডলের দু’টি নার্সিংহোমও রয়েছে। একটি নিউটাউনের জেএম অ্যাস্থেটিক। অন্যটি বারাসাত বামুনপাড়ায় সম্রাজ্ঞী নার্সিংহোম। সূত্রের খবর, বিহারের শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার দাবি করেছেন জুলফিকার। যদিও সেই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন বিহারের মেডিক্যাল বোর্ড।
একইভাবে ভুয়ো হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে ডা. শেখ সাইদুর হক। জানা গিয়েছে, তাঁর সমস্ত তথ্যই জাল। এদিকে সেই জাল ডিগ্রি নিয়েই এতদিন একধিক সার্জারি করেছেন তিনি। এমতাবস্থায়, এই জাল তালিকা কতদূর বিস্তৃত তা খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।