বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল পরাজিত হওয়ার পর এবার প্রতীক পর্যন্ত হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম। সিপিআই(এম) থেকে তৃণমূলে আসা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঘাসফুল শিবিরের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক মিলে ‘নতুন তৃণমূল’ গড়ে তুলেছেন। এমতাস্থায়,লোকসভাতেও কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে বিদ্রোহী-ব্লক তৈরি হয়েছে তৃণমূলের মধ্যেই। যাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবেন বলে প্রকাশ্যেই দাবি করেছেন। এবং, রাজ্যসভায় সুখেন্দুশেখর রায়ের দেখানো পথ ধরে একে-একে ইস্তফা দিচ্ছেন তৃণমূল সাংসদরা। যাঁদের মধ্যে ভবানীপুরের মল্লিক-বাড়ির কন্যা কোয়েল মল্লিকও রয়েছেন।
এদিকে, দলত্যাগ বিরোধী আইনে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে মমতা-অভিষেকের তৃণমূল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কি দলত্যাগ বিরোধী আইন মেনে চলেছিলেন?
নাহ্। মাননীয়া দলত্যাগ বিরোধী আইনের ধারপাশ দিয়েও হাঁটেননি। কংগ্রেস-সহ বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের নির্লজ্জের মতো ভাঙিয়ে এনেছেন। প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদে যেভাবে কংগ্রেসকে ভাঙিয়েছিলেন মমতা, তা এক প্রকার নজিরবিহীন ছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলেই কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর প্রশ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কখন কি ওই আইনের ধারপাশ দিয়ে হেঁটেছিলেন?
কী বলছেন অধীর চৌধুরী?
“সংবিধানের দশম তপসিলে দলত্যাগ বিরোধী আইনে বলা হয়েছে, দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ে অন্য কোনও দলে সামিল হওয়া যাবে। কিন্তু যদি কোনও বিধায়ক বা বেশ কয়েকজন বিধায়ক মিলে যদি দাবি করেন, আমরাই অমুক পার্টির মালিক, তাহলে কী হবে না-হবে, তা তো আর বলা নেই ওই আইনে। যেমন, শিবসেনা (শিন্দে) করেছে। কিন্তু কেউ যদি মনে করেন,আমি সরকারে সামিল হবো না, যে-পার্টিতে আছি সেই পার্টিটাকেই আমার করে নেবো, ওনারশিপ নিয়ে নেবো, তাহলে স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মালিকানা পাল্টে যাবে সে ক্ষেত্রে। স্পিকার সে ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য একটা আলাদা ব্লকের বন্দোবস্ত করে দিতে পারেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনে আগে ছিল এক তৃতীয়াংশকে বেরিয়ে এসে অন্যদলে সামিল হতে হবে, পরে তা দুই-তৃতীয়াংশ করা হয়, আয়ারাম-গয়ারামদের কথা ভেবে। সবই ঠিক আছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় যখন আমাদের দল ভাঙিয়ে আপনার দলে নিলেন মাননীয়া, তখন একজন বিধায়ককেও কি বলেছিলেন যে, কংগ্রেস ছেড়েছো, নির্বাচনে দাঁড়াও, জিতলে তবেই আমি গ্রহণ করবো? আপনি আচরি…। আপনি নিজে অধর্ম করেছেন, এখন আপনি ধর্মের কথা বলছেন”?