Calcutta Television Network

‘একুশে জুলাই’ এবার মাঠে মারা যাবে? মমতা-অভিষেককে হাইকোর্টের নোটিস

‘একুশে জুলাই’ এবার মাঠে মারা যাবে? মমতা-অভিষেককে হাইকোর্টের নোটিস
19 June 2026 • 03:28:47 pm

প্রতি বছর নিয়ম করে ধর্মতলার যে-জায়গায় রাস্তা বন্ধ করে তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মসূচি হয়ে এসেছে এতদিন, তা এবার থেকে আ্রর হবে কি না সন্দেহ।

সন্দেহের কারণ এক নয়, একাধিক।  প্রথমটি হল কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলা। যেখানে মামলাকারী আদালতকে জানিয়েছেন যে, ২০১৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস-সহ ৩৮ টি রাজনৈতিক দলকে নোটিস পাঠিয়ে হাইকোর্ট জানিয়ে দেয় ওই রাস্তা বন্ধ করে কোনও সভা করা চলবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও সভা চলেছে। এবং, রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন শাসকদল গত বছর অবধিও সেখানে রাস্তা বন্ধ করে শহিদ দিবস পালন করেছে।

আবেদনকারীর আর্জি শুনে কলকাতা হাইকোর্ট নোটিস পাঠায় মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবং, আদালত নির্দেশ অবমাননার বিষয়টিও উঠে এসেছে সেই আর্জিতে। 

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমতাবস্থায় আদালতের কাছে মমতা-অভিষেকের আইনজীবীরা কথার মারপ্যাঁচ ছাড়া আর কিছু করতে পারবেন না। হয়তো তাঁরা এমনও বলবেন, তৃণমূল কংগ্রেস একটি রাজনৈতিক দল এবং তাদের সভার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়েছিল কলকাতা পুলিস। এর সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কোনওভাবে জড়িত নন। আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছে, এই যুক্তি হাস্যকর হলেও মমতাকে অপদস্থ হওয়ার হাত থেকে বাঁচাবে। কিন্তু প্রশ্ন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন (এবং এখনও আছেন), তাহলে দলের ‘সেনাপতি’কে বাঁচানো যাবে কোন পথে?

আইনজীবীদের কেউ কেউ বলছেন, একুশে জুলাই ধর্মতলায় সভা করার জন্য পুলিসের কাছে নিয়মমাফিক অনুমতি নেওয়া হত এবং তার জেরে লালবাজারের তরফে বিশেষ ট্র্যাফিক নির্দেশিকা জারি করা হত। এই অনুমতি চেয়ে চিঠি দিতেন কে? দলেরই কোনও পদাধিকারী। আরও নির্দিষ্ট করতে বলতে গেলে, তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব। 

এমতাবস্থায়, আদালতের কাছে মমতা-অভিষেকের আইনজীবীরা সম্ভবত এটাই বলছেন,   আমাদের মক্কেল কিন্তু পুলিসকে চিঠি পাঠিয়ে অনুমতি চাননি। এবং, পুলিস যেহেতু পুলিস অনুমতি দিয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশিকা সত্ত্বেও, তাই তার দায় তৃণমূলের নয়।   

দ্বিতীয় যে-কারণে এবারের একুশে জুলাই পণ্ড হতে পারে তা হল, তৃণমূলের নিচুতলার নেতাকর্মীরা সব ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে। তোলাবাজি আর দুর্নীতির দায়ে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের গ্রেফতার হতে হচ্ছে। এমনকি, দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেও এফআইআর হয়েছে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একের-পর-এক মামলায় ডেকে পাঠাচ্ছে সিআইডি। এমতাবস্থায়, কাটমানি-সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকা নিচুতলার ছোট-সেজ-মেজ নেতারা এখন রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন, পুলিস ধরবে না তো? ডিম-নিক্ষেপ হবে না তো?

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একদিকে আদালত ও অন্যদিকে ছত্রভঙ্গ সংগঠন, এই জোড়াফলায় এবার খুব সম্ভবত পণ্ড হতে চলেছে একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ।

এমনকি এ-ও শোনা যাচ্ছে, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যাঁরা পুলিসের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন, তাঁরা যেহেতু সবাই যুব কংগ্রেস কর্মী ছিলেন (তৃণমূল তখনও জন্মায়নি), তাই এবার কংগ্রেস এই দিনটিকে পালন করতে চাইছে।

Related Posts
×
  • CTVN