দুর্গাপুজো মানেই উৎসব, আনন্দ আর হৈ-হুল্লোড়। পঞ্চমী থেকে দশমী—মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন, থিমের বৈচিত্র্য আর আলোর রোশনাইয়ে মেতে ওঠে বাংলা। কিন্তু উৎসবের এই বাহ্যিক জাঁকজমকের আড়ালেও দুর্গোৎসবের আর এক রূপ রয়েছে—মাতৃ আরাধনা, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং প্রিয়জনের স্মৃতিকে আগলে রাখার আবেগ। বনেদি বাড়ির পুজোগুলিতে সেই আবেগই যেন বিশেষভাবে ধরা পড়ে। সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের পুজো হোক কিংবা শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গোৎসব—দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের টানেই বারবার ফিরে যান দর্শনার্থীরা। তবে এমন বহু পুজো রয়েছে, যেখানে দর্শনার্থীদের ভিড়ের চেয়ে পুজোর আচার-অনুষ্ঠান এবং পারিবারিক আবহই বেশি গুরুত্ব পায়।
সেই ঐতিহ্যের ধারায় নতুন সংযোজন দুর্গাবাড়ির দুর্গাপুজো। টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের কর্ণধার তথা এসএনইউ-এর আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী তাঁর প্রয়াত স্ত্রী মৌ রায়চৌধুরীর স্মৃতিতে ২০২৫ সালে এই পুজোর সূচনা করেন। প্রিয়জনকে স্মরণ করার পাশাপাশি মাতৃ আরাধনার মধ্য দিয়ে এক বিশেষ আবেগকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ হিসেবেই এই পুজোর সূচনা। প্রথম বছর থেকেই দুর্গাবাড়ির পুজো ঘিরে তৈরি হয়েছিল আন্তরিকতার পরিবেশ। উপস্থিত ছিলেন গ্রুপের প্রায় সমস্ত কর্মী এবং পরিবারের পরিচিতজনেরা। তাঁদের উপস্থিতিতে উৎসবের আবহে এক অন্য মাত্রা যোগ হয়েছিল।
এবার সেই পুজোর দ্বিতীয় বর্ষ। প্রস্তুতি পর্ব শেষ। নতুন করে সেজে উঠছে দুর্গাবাড়ি। তবে আয়োজনের পরিসর যা-ই হোক, পুজোর মূল সুরে থাকছে ঐতিহ্য ও বনেদিয়ানার ছোঁয়া। আধুনিক সময়ের ব্যস্ততার মধ্যেও প্রাচীন রীতিনীতি, পুজোর আচার এবং পারিবারিক আবেগকে গুরুত্ব দেওয়ার এই প্রয়াস দুর্গাবাড়ির পুজোকে আলাদা পরিচিতি দিচ্ছে। দুর্গাপুজো কেবল জনসমাগম কিংবা থিমের প্রতিযোগিতা নয়—এই উৎসব স্মৃতি, শিকড় ও সম্পর্কেরও উদ্যাপন। মৌ রায়চৌধুরীর স্মৃতিকে সঙ্গী করে দুর্গাবাড়ির পুজো সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়। দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করে এই পুজোয় তাই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বনেদিয়ানা, মাতৃ আরাধনা এবং প্রিয়জনকে স্মরণে রাখার আন্তরিকতা। সময়ের সঙ্গে বদলায় পুজোর আয়োজন, বদলায় উদ্যাপনের ধরন। কিন্তু ভক্তি, স্মৃতি আর ঐতিহ্যের যে বন্ধন দুর্গোৎসবকে বাঙালির হৃদয়ে স্থায়ী আসন দিয়েছে, দুর্গাবাড়ির পুজো সেই বন্ধনকেই আরও একবার সামনে আনছে।