এ কি দেখলো সারা বিশ্ব ! এ যেন হারের চিতা ভস্মের মধ্যে থেকে ফিনিক্সের হয়ে ওঠা এক রূপ কথার স্ক্রিপ্ট রচনা হলো ফুটবলের সবুজ গালিচায়।
আর্জেন্টিনা -মিশর ম্যাচটা ঘিরে সারা বিশ্ব জুড়ে ছিল উৎসবের বাতাবরণ। প্রতি ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও মেসি তার বাঁ পায়ের জাদুতে ইজিপ্ট এর যাবতীয় জারি-জুরি শেষ করে দিয়ে শেষ আটের দিকে রওনা দেবে নীল-সাদা বাহিনী। এটাই তো সবাই ভেবে রেখেছিল। ঠিক যেন এক মিষ্টি প্রেমের গল্পের মতো... সহজ সরল।
কিন্তু শুরুতেই উলোট পুরান! আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে এগিয়ে গেলো মিশর। তো কি হয়েছে, মেসি আছে তো, এক্ষুনি গোল শোধ দিয়ে দেবে --- এরই প্রত্যাশা করছিলো কোটি কোটি ভক্তকুল!
গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা শুরু করে আর্জেন্টিনা। ঠিক 20 মিনিটের মাথায় পেনাল্টি অর্জন করলো তারা। যেন বাজ পড়লো! পেনাল্টি মিস করলো LM 10! কিন্তু আশা না হারিয়ে মুহুর্মুহু আক্রমণের ঝড় তুলতে থাকে তারা। কিন্তু গোলরক্ষক সুবীর প্রাচীরের মতো সব কিছু আটকে দিলো। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার এক তরফা আক্রমণের পরেও স্কোর লাইন সেই 0-1 রইলো।
দ্বিতীয়ার্ধে আবার গোল ! জিকো (67 মিনিটে)। অনেকেই ভেবে নিয়েছিল নেইমার, রোনালডোর পর, এবার মেসি। এদিকে স্বপ্নে বুঁদ মিশরের সমর্থকদের অপেক্ষা শুধুই শেষ বাঁশি।
কিন্তু ঠিক তখনি কাহিনীতে টুইস্ট। ফুটবল দেবতার জীয়ন কাঠিতে আবারো জেগে উঠলো আর্জেন্টিনা! 79 মিনিটে, একটি গোল শোধ করে খ্রীষ্টান রোমেরো ।
একপ্রকার মরে যাওয়া ম্যাচে প্রাণ ফিরে এলো। তারপর পৃথিবী দেখলো আসল আর্জেন্টিনাকে। যেন এক ক্ষুধার্ত বাঘ।
ক্ষনিকের মধ্যেই এলো কাঙ্খিত মুক্তি! ত্রাতা ?সেই মেসি...সেই ম্যাজিক (83 মিনিটে)! 90'+3' মিনিটে তৃতীয় গোল। কান্নায় ভেঙে পড়লো গোটা মিশর। কিন্তু তার বীরের মতো লড়েছে। সেটাই মনে রাখবে সবাই।
আর মেসি? যেন জানান দিলেন...'অভি হ্যাম জিন্দা হ্যায়।' বয়স যেন নতজানু হলো কাল । চোখে মুখে সেই পুরানো ক্ষুধা একই। শ্রেষ্টত্ত্বের আস্ফোলন বা দাবি কোনোদিনে করেননি তিনি। কিন্তু যখনই তার বাঁ পা চলেছে, চূর্ণ বিচূর্ণ হয়েছে বিপক্ষের অভেদ্য দুর্গ ।
কিন্তু মানুষ হয়েই তো জন্মেছেন দেবদূত, তাই তারও আবেগ আছে। বাচ্চার মতো কেঁদে ফেললেন ম্যাচের শেষে। পরিশেষে এটাই বলার, হাজারো বিতর্কের মধ্যে না গিয়ে মেসি ও আর্জেন্টিনার কাছ থেকে জীবনের মূলমন্ত্রটা শেখাই ভালো। সেটা হলো, হারার আগে হারতে নেই কখনো।