সেমী-ফাইনালের মতো সেমী-ফাইনাল হয়েছে আজ রাতে ! দুর্দান্ত !আগেরটা সবাইকে হতাশ করেছিল। হিসাব ওলোট-পালট করে দিয়ে এমবাপেদের বদলে য়ামাল রা ফাইনালে পৌঁছায় ।
তাহলে এটাতেও কি সেরকম কিছু একটা ঘটবে ? এইসব কূ-চিন্তা মেসি ভক্তদের মনে দানা বাঁধছিলো। মেসি-বিসর্জন তো ফ্যানরা তাদের দুঃসপ্নেও ভাবতে পারেনা, তাই না ? যাই হোক, শুরু হলো মহারণ ।
প্রথমার্ধে , বেলিংহাম, কেন, দের গর্জনে কাঁপছিলো গোটা স্টেডিয়াম। দুরন্ত গতি আর প্রেসিং ফুটবল দিয়ে আর্জেন্টিনাকে চেপে রেখেছিলো তারা। একটুও মেলে ধরতে দেয়নি। কিন্তু ব্যতিক্রম একজনই।কে আবার... লিও মেসি।
দেবদূত এলেন...মন প্রাণ উজাড় করে লড়াই করলেন...দেশের জন্য।
আজ পৃথিবী দেখলো এক অন্য মেসি কে ।
বাঁ পায়ে সবুজ কার্পেটে উল্কি আঁকা শিল্পী মেসি নয়... আজ সে যেন এক যোদ্ধা!
জানিনা এই লড়াইটাকে কি ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। সেই এগারো নামক সিনেমার গানটা তো সবাই শুনেছেন:
'সংকল্পবদ্ধ হাথের মুঠো।
আজ আমরা ঝড় তোরা খড়-কুটো। সংগ্রাম'
শোনা যায় চক দে র কবির খানের ''সত্তর মিনিট"এর মতো দ্বিতীয়ার্ধে সতীর্থদের পেপ টক দিয়েছিলো এল এম। বলেছিলো, তারা যেন এমন লড়াই করে, যেন জীবনের শেষ লড়াই। ফল যাই হোক। তারা যেন মাথা উঁচু করে মাঠ ছাড়তে পারে।
সত্যি তো, সে আজ লিডার...লিজেন্ড... লিও।
নীল সাদা লড়াই পেলো ভাগ্য দেবতার স্বীকৃতি। এলো কাঙ্খিত জয়। ফাইনাল এর ফিক্সচারও যেন স্বয়ং হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো। সত্যিতো, নীল-সাদা বিহীন ফাইনাল, ধম্মে সইবে?
না না ভুল ভাববেন না। ইংল্যান্ড ও তাদের ফুটবল ঐতিহ্য কে একটুও খাটো করে করে দেখা হচ্ছে না। কিন্তু কি করা যাবে, এখানে নামটা যে আর্জেন্টিনা! ম্যারাডোনা, মেসির আর্জেন্টিনা।
বিরতির পর 55 মিনিটে গর্ডনের গোল ! এগিয়ে গেলো ব্রিটিশরা।
কিন্তু তার পর,মাঠ জুড়ে শুধুই আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনা আর আর্জেন্টিনা। মুহুর্মুহু আক্রমণের তীরে বিদ্দ হয়ে যাচ্ছিলো ইংল্যান্ড। সেই চাপে রীতি মতো দম বন্ধ হয়ে আসছিলো ব্রিটিশদের। অক্সিজেন জুগিয়ে যাচ্ছিলো একমাত্র গোলরক্ষক পিকফোর্ড।
কিন্তু একটা হিন্দিতে প্রবাদ আছে না, 'বাকরে কে আম্মা কব তাকে খ্যার মানায়ে।' 85 মিনিটে এলো সেই মুহূর্ত! মেসির পাশে 20 গজের দূরত্বে তীরের গতিতে বাঁক খাওয়ানো শটে গোলশোধ করলোএনজো ! সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়াম জুড়ে আকাশ ফাটা গর্জন। আনন্দের।
আর্জেন্টিনীয় সমর্থকদের সেই খুশিতেই যেন হাথিয়ার নামিয়ে দিলো ইংল্যান্ড। কোথায় বেলিংহ্যাম? কোথায় কেন? তাদের পা যেন মাটিতে আটকে গেছে ক্লান্তিতে। তার পর আর যা হয়, মানে যা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা করে থাকে প্রতি ম্যাচেই, সেটাই হলো। মেসির ক্রস থেকে মার্টিনেজএর গোল ইংল্যান্ডের জালে জড়াতেই খেলা শেষ।
এবার অধীর অপেক্ষা 20 জুলাইয়ে মহাযুদ্ধের।