কাতালানিয়ার স্বাধীনতাপন্থী প্রতীক 'এস্তেলাদা'। ক্যাম্প ন্যু-তে হাজারও ভিড়ের মাঝে একেকটি মুখ। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের দেড় মাসও পেরোয়নি। তার মধ্যেই ফুটবল মাঠে ফের উঠে এল কাতালানিয়ার স্বাধীনতার দাবী। যা আগে উঠে এসেছে বারবার। বার্সেলোনা সমর্থকদের স্লোগানে, চিৎকারে, উচ্ছাসে। সেদিনও তেমনই স্বাধীনতাকামী পতাকা হাতে ন্যু ক্যাম্পে হাজির হয়েছিল দশ হাজার মানুষ। দানা বাঁধলো বিতর্ক। বুদ্ধিজীবিমহল নিদান দিল, 'স্বাধীন দেশে কিসের আজাদী!' কে বোঝাবে তাঁদের, যত লড়াই সবই তো স্বাধীনতার, শৃঙ্খল ভাঙার, অনন্ত উড়ানের। পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারদের জন্য পরিকল্পিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে বন্ধ করে দেয় বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ। এত স্বাধীনতাকামী মানুষ একসাথে! ভয় হওয়াই স্বাভাবিক কতৃপক্ষ তথা শাসকের! বর্তমান বার্সেলোনা দলে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী আট জন ফুটবলার রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন রদ্রিও। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিরুদ্ধে মরসুমের প্রথম ঘরের ম্যাচ। ম্যাচ শেষেই ফুটবলারদের বিশেষ সম্মান জানানোর কথা ছিল ক্লাবের। ম্যাচে বার্সেলোনা ২-০ গোলে জয় পেলেও সংবর্ধনার সেই অনুষ্ঠান আর সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। খেলা শুরু হওয়ার আগেই গ্যালারিতে দেখা যায় কাতালানিয়ার স্বাধীনতার প্রতীক, ‘দ্য এস্তেলাদা’ পতাকা।
ম্যাচের আগে সমর্থকদের বিপুল অংশ গ্যালারিতে এই পতাকা বিলি করে। গ্যালারির প্রতিটা কোণা ভরে যায় কাতালান পতাকায়। স্পেনের অন্তর্গত কাতালোনিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই স্বাধীনতার দাবি রয়েছে। এই আন্দোলনের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বার্সেলোনা ক্লাবের নামও জড়িয়েছে। ন্যু ক্যাম্পে বিপুল সংখ্যক স্বাধীনতাকামী পতাকা দেখা যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও বিতর্কিত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারদের সংবর্ধনার অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বার্সেলোনার সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা এ বিষয়ে খুব বেশি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান করার মতো উপযুক্ত পরিবেশ তখন ছিল না। অন্য দিকে, পতাকা হাতে থাকা কয়েক জন সমর্থককে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে খবর। তবে স্বাধীনতার দাবিতে সরব সমর্থকদের মতপ্রকাশের অধিকারকেও সমর্থন করেছেন লাপোর্তা। তাঁর মতে, নিজের মত প্রকাশ করা মানুষের অধিকার এবং সেই অধিকার প্রয়োগের জন্য পুলিশের দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা ঠিক নয়। আদতে পুলিশি চাপে কোনো বিক্ষোভ থামে না কোনোদিন। বাড়তে বাড়তে বাড়তে একসময় কমে যায় ভয়। কমে যায় সব হারানোর আশঙ্কা। মানুষ তখন ঘুরে দাঁড়ায়। গ্যালারি পেরিয়ে তখন মানচিত্রের বুকে লাল-হলুদ পতাকা হয়ে যায় একটুকরো স্বাধীনতার প্রতীক।