নজরুলের সেই কালজয়ী পংক্তি টি দিয়েই শুরু করা যাক :
"দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মত।"
সত্যি তো, এ যেন লাল হলুদ সমুদ্রের ভয়ঙ্কর তোড়ে, খেই না পেয়ে মোহন তরীর তলিয়ে যাওয়ার গল্প রচনা হলো যুবভারতীতে।
রবিবাসরীয় ডুরান্ড কাপ ফাইনাল যেন এক বিভীষিকা হয়ে রইলো এই প্রজন্মের মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে। যেন ৭৫এর সেই বেদনাদায়ক ৫-০ এর পুনরাবৃত্তি হয়েই যাচ্ছিলো একটু হলে!
কিভাবে সবুজ মারুন দল খেলার ২২ মিনিটে ই 3 গোল খেয়ে বসে, কোনো ভাবেই যেন অঙ্কটা মেলানো যাচ্ছিলো না।
হরেক পজিশনে এক্কেবারে বাছাই করা দেশের সেরা ফুটবলার দের নিযে গড়া দল। কে নেই বলুনতো? বিশাল কাইথ, লিস্টন,ছাঙতে, অপুইয়া, সাহাল, সুভাশিষ ---- এদের নিয়ে তো একটা আস্ত জাতীয় দলই গড়ে ফেলা যায়!
আসলে বিরিয়ানির মাল-মশলা তো ছিল সবই মজুত ছিল। কিন্তু চালটা যদি খারাপ থাকে। যা হবার তাই হলো, ভাত গলে পাঁক হয়ে গেলো!
ঠিকই ধরেছেন ইঙ্গিত টা কোচের দিকেই । প্যানাজিওটিস ডিলম্পেরিস। সুদর্শন গ্রিক ভদ্রলোক ভারতীয় ফুটবলে এখনো নবাগত এটা বলাই যেতে পারে। সেটা ভালোই বোঝাগেল তার প্লেয়ার সিলেকশন এবং স্ট্রাটেজির মধ্যে দিয়ে। গতকাল উনি হাড়ে- হাড়ে টের পেয়েছেন কলকাতা ফুটবল পাহাড় - প্রমান চাপ।
আর অপরদিকে Habas।সবাই জানেন তিনি কে। তিনি যে বাজিকর...লক্ষ্য কোটি লাল হলুদ হৃদয়ের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। জানেন কি ভাবে কিস্তিমাত করতে হয়।
কালকের খেলাটা কোথাও যেন 97কেও মনে করিয়ে দিলো। ভোকাল টনিক দিয়ে ডায়মন্ড চক ভেঙে দেওয়ার সেই ইতিহাস। আজকের অনেকেই জানবেন না হয়তো।
সে দিনেও স্কোর ছিল ৪-১...আজও তাই। সেই দিন হ্যাটট্রিক করে উদ্ভাসিত হয়েছিল নতুন তারকার। ভাইচুং ভুটিয়া, নাম তো শুনা হয় হোগা। গত কালও এক নতুন তারকার উদ্ভব হলো,এডমান্ড লালরিংদিকা। সত্যি তো, সময় যেন ঘড়ির কাঁটার মতো ঘুরে ফিরে আসে।
যাগ্গে সে কথা। নতুন করে আবার সব কিছু ভাবার সময় হয়েছে মোহন কোচ ও ম্যানেজমেন্টের কাছে, যদিও মরশুম পুরোটাই বাকি। অনেক প্রশ্নের উত্তর খোঁজাও বাকি।
দেখা যাক আগামী দিনে কি হয়। মোহন বাগান কি এই লন্ড-ভন্ড পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ? সময়েই বলবে।
আর ইস্ট বেঙ্গল? যা বলা যায় তাই কম হবে ...দুরন্ত ঘূর্ণি? জলে ওঠা মশাল? বারুদ ভরা দামাল ঘোড়া? আমি বরং এটাই বলবো…ইস্ট বেঙ্গল যেন খোঁচা খাওয়া বাঘ এভাবেই ফিরে আসে বার বার।