সাম্প্রতিক সময়ে অনেক নতুন স্মার্টফোনে দেখা যাচ্ছে চকচকে ভেগান লেদার ব্যাক প্যানেল। দেখতে আকর্ষণীয়, হাতে ধরতেও আলাদা অনুভূতি-এই কারণেই অনেক ক্রেতা ভাবছেন এটি নাকি প্রিমিয়াম মানের নতুন উপাদান। কিন্তু গ্যাজেট বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ভেগান লেদার আসলে গ্রাহকদের ভুল ধারণা দেওয়ার এক কৌশলও হতে পারে।
এক সময় প্রায় সব স্মার্টফোনেই ব্যাক প্যানেল তৈরি হত গ্লাস ব্যাক প্যানেল দিয়ে। তবে কাচ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি হওয়ায় নির্মাতারা ধীরে ধীরে সরে আসেন সেই প্রযুক্তি থেকে। তার বদলে বাজারে আসে প্লাস্টিক ব্যাক প্যানেল-যা তুলনামূলকভাবে বেশি টেকসই এবং কম খরচে তৈরি করা যায়।
কিন্তু সমস্যা হল, প্লাস্টিক ব্যাক প্যানেল গ্রাহকদের তেমন আকর্ষণ করতে পারেনি। বিশেষ করে বাজেট স্মার্টফোনে এর ব্যবহার বাড়লেও বাজারে তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। তখনই নির্মাতারা নতুন কৌশল হিসেবে নিয়ে আসেন ‘ভেগান লেদার’ ব্যাক প্যানেল।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ভেগান লেদার আসলে আলাদা কোনও উপাদান নয়। মূলত এটি উন্নত মানের প্লাস্টিক, যাকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে দেখতে ও স্পর্শে চামড়ার মতো লাগে। ফলে গ্রাহকের কাছে ফোনটি আরও প্রিমিয়াম মনে হয়। এই কৌশলের ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ফোনের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়-আর আশ্চর্যের বিষয়, তাতেই বাজারে চাহিদাও বেড়ে যায়।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, ভেগান লেদার এখনও পর্যন্ত কাচের ব্যাক প্যানেলের প্রকৃত বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি। তাই বেশিরভাগ প্রিমিয়াম স্মার্টফোনে এখনও কাচের ব্যাক প্যানেলই ব্যবহার করা হয়।
ভেগান লেদার দেখতে যতটা আধুনিক মনে হোক, এর ভিতরের বাস্তবতা অনেকটাই মার্কেটিং কৌশলের উপর নির্ভরশীল। তাই নতুন স্মার্টফোন কেনার আগে শুধু বাহ্যিক ডিজাইন নয়, তার উপাদান সম্পর্কেও সচেতন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।